আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে হ ত্যা করেন ট্রাকচালক
২ ঘন্টা আগে সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬
জ্বালানি
তেলের জন্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত দীর্ঘ আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি
ট্রাকচালক সুজাত আলী। এই ক্ষোভ থেকেই পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার
নৃশংস সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘাতক চালক সুজ্জাত আলীকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে
এই তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
রোববার
(২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোর র্যাব-৬ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান
কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি। এর আগে বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত
মাহমুদপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব
জানায়, শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে চালক সুজাত আলী নড়াইল সদর উপজেলার ‘তানভীর
ফিলিং স্টেশনে’ ডিজেল নিতে যান। পাম্পে পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় ম্যানেজার
নাহিদ সরদার তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তেল না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত
হয়ে সুজ্জাত ম্যানেজারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন এবং দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে
চলে যান।
তদন্ত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাম্পের ডিউটি শেষ করে রাত ২টার দিকে ম্যানেজার নাহিদ
সরদার ও তার সহকর্মী জিহাদ মোল্লা মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা তুলারামপুর
রেল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ঘাতক ট্রাকটি পেছন থেকে তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ সরদার নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন জিহাদ মোল্লা। ঘটনার পর থেকেই
চালক সুজ্জাত আলী পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা অভিযান
চালিয়ে বাঘারপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। আটক সুজ্জাত নড়াইল
সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে।
অন্যদিকে,
রোববার দুপুরে বেনাপোল পৌর ট্রাক টার্মিনাল থেকে ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে নাভারণ হাইওয়ে
পুলিশ। নড়াইল ও যশোর ডিবি পুলিশ এবং বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত
অবস্থায় ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬
যশোরের অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক সুজ্জাত আলী দীর্ঘ
সময় অপেক্ষা করেও তেল না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।