যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে ছাত্রদল নেতার নির্যাতনের অভিযোগ, উদ্ধার করলো পুলিশ
২ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
গোপালগঞ্জের
টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার
বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার
করে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে।
সোমবার
(৩১ আগস্ট) বিকালে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা
সাহেদ তালুকদারের বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত
সাহেদ তালুকদার (২৩) টুঙ্গিপাড়া এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি
এবং বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত শেখের ছেলে। এ ঘটনায় সাহেদ তালুকদার ও তার মা-বাবাকে
অভিযুক্ত করে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার শাশুড়ি জেসমিন বেগম।
লিখিত
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বছরের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের
নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে
বর্ণা খানমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সাহেদ তার স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি
করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাহেদ ও তার পরিবারের
সদস্যরা বর্ণাকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মেয়ের
সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় জেসমিন বেগম বিভিন্ন সময়ে জামাইকে নগদ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি
করেন। গত ২৯ আগস্ট জেসমিন বেগম ও তার মেয়ে কল্পনা খানম বর্ণাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে
গেলে তাদের সামনেই বর্ণাকে মারধর করে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জেসমিন
বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জেসমিন
বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই মেয়েজামাই বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। আগে অনেক টাকা-পয়সা
দিলেও এখন আর তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি
থেকে বের করে দেয়। এসব কারনে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাহলে সে দায়
কে নেবে? আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।
বর্ণা
খানম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই সাহেদ আমার কাছে টাকা চাইতেন। সে নিয়মিত নেশা করে
আমাকে মারধর করত এবং টাকা না দিলে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখাত। কয়েকদিন আগেও আমার মা ও বড় বোনের সামনে আমাকে
বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখে। আমি ওর সঙ্গে সংসার করতে চাই না। বর্ণার বড় বোন কল্পনা
খানম জানান, মারধরের খবর পেয়ে তিনি ও তার মা বর্ণাকে আনতে গেলে তাকেও আটকে রাখা হয়।
পরে বাধ্য হয়ে তাদের মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তবে
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহেদ তালুকদার। তিনি বলেন, আমি কখনো শাশুড়ির কাছে যৌতুক
দাবি করিনি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে কখনো কখনো আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি
হয়েছে। তার দাবি, সংসার ভাঙার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি
তিনি আইনগত ও সামাজিকভাবে মোকাবিলা করবেন।
টুঙ্গিপাড়া
থানার এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে বর্ণা খানমকে শ্বশুরবাড়ি
থেকে উদ্ধার করে তার মা জেসমিন বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।