গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি
৫৯ মিনিট আগে রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
গুমের
ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে
সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো 'আয়নাঘর' থাকবে না এবং দেশে ফ্যাসিবাদ
ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।
রবিবার
'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত
এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিগত দেড় দশকের
ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, ওই সময়ে ভিন্নমত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
স্তব্ধ করতে গুম ও 'আয়নাঘর'-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হয়েছিল। অথচ ফ্যাসিস্টের
আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করে গেছে। ছাত্র-জনতার
অভ্যুত্থানে সেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রতিশোধ নয়, বরং
প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
গুমকে
জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি মানুষের জীবন,
ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষার মতো সাংবিধানিক অধিকারগুলোকে একসঙ্গে ভুলুণ্ঠিত
করে। এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল
ইসলাম, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিককে স্মরণ করেন।
একইসাথে গুম-খুনের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থান এবং
অধিকারকর্মী সানজিদা ইসলাম তুলির সোচ্চার ভূমিকার কথা তিনি শ্রদ্ধাভরে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি
বিশ্বাস করেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। তাই তিনি
গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের
দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এমন একটি নতুন বাংলাদেশ
গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো প্রতিহিংসা ও
ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না।
মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার
হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনার যথাযথ বিচার
নিশ্চিত করার দাবি জানান।