পরিবারের অমতে ভালোবাসার টানে ঘরছাড়া, বিষপানে থামল জীবন
৫৬ মিনিট আগে রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
ভালোবাসার
মানুষটির হাত ধরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন কিশোরী লাবনী আক্তার। পরিবারের অমত
উপেক্ষা করে প্রেমিক রিফাত ঘরামীর সঙ্গে ঘর ছেড়ে বিয়েও করেছিলেন। ভেবেছিলেন, ভালোবাসার
মানুষকে নিয়ে গড়ে তুলবেন নিজের সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার টিকল মাত্র নয় মাস।
শনিবার
(২২ আগস্ট) দুপুরে বিষপানের পর মারা গেছেন ১৬ বছর বয়সী লাবনী আক্তার। তার মৃত্যুর খবরে
স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
লাবনী
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভুরঘাটা গ্রামের হাসমত আলী খানের মেয়ে।
তার স্বামী রিফাত ঘরামী মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আমজেদ আলী ঘরামীর
ছেলে।
লাবনীর
মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার
হচ্ছিলেন তার মেয়ে। এসব কারণে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন লাবনী।
রাজিয়া
সুলতানা বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিষপান করা অবস্থায় লাবনী তাদের বাড়ির সামনে
এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার
অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে
তার মৃত্যু হয়।
লাবনীর
স্বজনরা জানান, তার মৃত্যু শুধু একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন
ও মানসিক চাপের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু
তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে
লাবনীর স্বামী রিফাত ঘরামীর ফোন বন্ধ থাকায় নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়নি।
গৌরনদী
মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে
পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মাত্র
১৬ বছরের লাবনী যে সংসারটিকে ঘিরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, নয় মাসের মাথায় সেই
সংসারই থেমে গেল তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। এখন তার পরিবারের একটাই দাবী বিষপানের প্রকৃত
কারণ সামনে আসুক এবং তদন্তে কেউ দায়ী হলে তার যথাযথ বিচার হোক।