প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন, রায় শুনে জ্ঞান হারালেন আসামি
১ ঘন্টা আগে রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
মেহেরপুরে
ধর্ষণের দায়ে কলিম উদ্দিন কালু (৫১) নামের এক ইউপি সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড
দিয়েছেন আদালত।
রোববার
(২৩ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিচারক আলী মাসুদ সেখ এ দণ্ডাদেশ
প্রদান করেন। রায়ে আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
দেয়া হয়।
এছাড়াও
রায়ে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১৬ ধারার বিধান
অনুযায়ী আসামি কলিম উদ্দিন কালুর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করবেন জেলা
প্রশাসক। বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। পরে ওই টাকা ভিকটিমকে প্রদান করবেন
আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত
কলিম উদ্দিন মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে এবং পিরোজপুর
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
এ
দিকে রায় শোনার পরই আসামি কলিম উদ্দিন আদালত প্রাঙ্গণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নেয়া
হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে।
আদালত
সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এক প্রতিবন্ধী নারী
রাতে খাবার খেয়ে ঘরে শুয়ে ছিলেন। কলিম উদ্দিন ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। এ
সময় ওই নারীর চিৎকার করলে পালিয়ে যান কালু। যাওয়ার সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি
দেন তিনি।
২১
ডিসেম্বর ভুক্তভোগী নারীর মা বাদি হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই খান মারুফুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল
করেন।
মামলাটিতে
সরকারী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড.
মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
আসামি
পক্ষের আইনজীবী ছিলেন পল্লব ভট্টাচার্য, ইব্রাহমী শাহীন ও এ কে এম শফিকুল আলম।
পাবলিক
প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী
লীগের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়াও চলতি ইউপি সদস্য হওয়ায় নাানাভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে
নেয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাদিপক্ষের সাথে আপসের চেষ্টা করেছেন। হুমকি প্রদান করে
স্বাক্ষীদের আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে বাধা প্রদান করেন। এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত
হলো।