চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী জ্ঞান মন্দিরের উদ্বোধন
২ ঘন্টা আগে শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মন্দিরটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ৯টায় দেবী পূজা ও বন্দনার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনের পর সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অতিথিদের বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে আপ্যায়নের আয়োজন করা হয় এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, বর্তমান সরকার সকল ধর্মের প্রতি সংবেদনশীল এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশ এখন এমন এক অবস্থানে এসেছে, যেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈচিত্র্য ছাড়া সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। তিনি ক্যাম্পাসকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল পরিবেশে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। তিনি মন্দিরটিকে শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মন্দিরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
চবি প্রতিনিধি