মাটির নিচে গোপন বাংকারে বসে মাদকের আসর
১ ঘন্টা আগে শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
লক্ষ্মীপুর
সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে একটি নির্জন বাগানে মাটির নিচে গড়ে তোলা হয়েছে সুসজ্জিত
এক গোপন বাংকার। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, তবে মাটির নিচে সিঁড়ি বেয়ে নামলেই দেখা
যায় আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত থাকার ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকচক্ষুর
অন্তরালে এই বাংকারে দিন-রাত বসত মাদকসেবীদের আড্ডা এবং চলত মাদক কেনাবেচার রমরমা কারবার।
চাঞ্চল্যকর
এই ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে। গত কয়েক দিন ধরে এই গোপন আস্তানার
বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত
ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের খোকন সাহার ছেলে সুজন সাহা ওরফে ভক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদক
ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও এলাকাবাসী তার একাধিক মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। তবে
দমে যাননি সুজন। এবার তিনি সুকৌশলে বাড়ির পাশের একটি নির্জন বাগানের ভেতরে মাটির নিচে
এই অভিনব বাংকার তৈরি করেন। সেখানে বিছানাসহ বিশ্রামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
যাতে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
এলাকাবাসীর
ভাষ্যমতে, সুজনের এই গোপন আস্তানায় প্রতিদিনই বহিরাগতদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যেত। এতে
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সম্প্রতি এই বাংকারের
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি
হয়। লোকমুখে জানাজানি হওয়ার পর রাতের আঁধারে বাংকারটি তড়িঘড়ি করে ভেঙে ফেলে চিহ্ন মুছে
ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ
বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টুটুল পাটোয়ারী বলেন, “সুজন সাহা পেশাদার মাদক কারবারি। বাগানের
ভেতর মাটির নিচে বাংকার বানিয়ে তিনি সেখানে মাদকের আসর বসাতেন এবং এখান থেকেই বিভিন্ন
এলাকায় মাদক সরবরাহ করতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। আমরা এই
এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্ত
সুজন সাহার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী সুবাঙ্কা সাহা বাংকারটি তার
স্বামীর তৈরি করা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “বাংকারটি আমার স্বামী তৈরি
করেছিলেন ঠিকই, তবে সেখানে মাদক কেনাবেচা হতো কি না তা আমার জানা নেই। আমি জানতাম সেখানে
বসে সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় এবং সিগারেট খায়।” স্বামীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও
তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ
বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান
কাজেমী গণমাধ্যমকে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—’জিরো
টলারেন্স’। বাগানের ভেতরে গোপন আস্তানার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।
ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সুজন নয়, তার পেছনে আর কারা
জড়িত এবং এই বাংকার তৈরিতে কাদের ইন্ধন ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হোক।