সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় দুই ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
কক্সবাজারের
টেকনাফে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ছেলের মারধরের শিকার হয়ে কালা মিয়া (৭০)
নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার
(৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই তার
মৃত্যু হয়।
নিহত
কালা মিয়া টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা। টেকনাফ হাসপাতালের
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মামুন বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত
হওয়ায় মারধরের ধকল সহ্য করতে না পেরে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা
করা হচ্ছে।’
স্থানীয়
ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালা মিয়ার সঙ্গে তার দুই ছেলে শাকের আলম ও মনির আলমের দীর্ঘদিন
ধরে জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই ছেলে বাবার কাছে জমি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার
জন্য চাপ দিত। কিন্তু কালা মিয়া জমি বিক্রি করে সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার
কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
অভিযোগ
রয়েছে, বিরোধের জেরে গতকাল দুই ছেলে তাদের বাবাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায়
লুকিয়ে রাখে। পরে তাকে মারধর করা হয়। রাতের দিকে তাকে গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায়
উদ্ধার করা হলে স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই
তার মৃত্যু হয়।
নিহতের
বড় মেয়ে এলম বাহার বলেন, ‘আমার ভাই মনিরুল আলম ও শাকের আলম তাদের বাবাকে এক আত্মীয়ের
বাসায় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর রাতের দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে
পাওয়া যায়। সামান্য জমির লোভেই দুই ভাই বাবাকে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
নিহতের
স্ত্রীও অভিযোগ করে বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তির অংশ পেয়েছিলাম এবং সেটি বিক্রি করার জন্য
কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ নিয়ে দুই ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং জমি নিজেদের নামে
লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এমনকি কয়েকবার তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি
করেন।’ তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘সম্পত্তির কাগজপত্রে স্বাক্ষর
নেওয়ার জন্য তারা আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয়
ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, ‘জমি নিয়ে কালা মিয়ার পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
বিষয়টি এর আগে জেনে তাদের ডেকে বুঝিয়েছিলাম। তবে গত দুই দিন ধরে তারা তার বাপকে গুম
করে রাখে। আজকে বেহুঁশ অবস্থায় তাকে পাওয়া গেলেও হাসপাতালে নেওয়ার আগে তার মৃত্যু
হয়।’
টেকনাফ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে
দুই ছেলে মিলে বাবাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো
হয়েছে।’