গাছ না কেটে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Bortoman Protidin

১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬


#

সড়ক সম্প্রসারণে অতীতে রাস্তার দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা ছিল যেন সাধারণ বিষয়।পরিবেশের ক্ষতির দিকটি কখনোই বিবেচনা করা হতো না। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক সিদ্ধান্তেই।

পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি গাছ না কেটে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় মেরিন ড্রাইভের ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কারণে কেটে ফেলার ঝুঁকিতে থাকা ৩ হাজার গাছ না কেটেই নির্মাণ করা হচ্ছে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের চার লেনের সড়কটি।

২০২৪-২৫  অর্থবছরে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের ৪ লেনে উন্নীতকরণের বৃহত্তর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশ ৪ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। কাজ শুরুর পরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন হাজার গাছ কাটার আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং একটি গাছও না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী ও প্রকৃতি প্রেমের  নির্দেশনা পেয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী গাছ না কাটার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবীব সেখানে গিয়ে গাছ না কেটে মেরিন ড্রাইভের সড়ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা  ব্রি. জেনারেল (অব.) সামসসহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সঙ্গে সঙ্গে গাছ না কাটার নির্দেশনা দেই। পরে আমরা সরেজমিনে যাই। সেখানে নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করি। নকশায় সামান্য এলায়েন্টমেন্ট পরিবর্তন করে গাছগুলোকে না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রেখেছি। 

তিনি জানান, শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয়, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষরোপণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে। 

এই প্রকল্পে রাস্তা প্রশস্তকরণ, রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ ২ লেনের সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকৃতি রক্ষার এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্যও নতুন বার্তা দিচ্ছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied