দুই ভারতীয়কে বাঁচাতে প্রাণের ঝুঁকি নিলেন পাকিস্তানি যুবক
১ ঘন্টা আগে বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬
টানা
ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে মানবতা ও সাহসিকতার
এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক পাকিস্তানি যুবক। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডুবে
যাওয়া একটি গাড়ি থেকে দুই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করেছেন তিনি।
স্থানীয়
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ওমানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু
হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বিভিন্ন উপত্যকা ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দেশটির
বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই
দুর্যোগের মধ্যেই ওমানের স্থানীয় গণমাধ্যম মাসকট ডেইলি এক মানবিক ঘটনার খবর প্রকাশ
করেছে, যা ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উদ্ধারকারী
ওই যুবকের নাম শাহজাদ খান (২৫)। তিনি পাকিস্তানের পেশোয়ারের বাসিন্দা এবং বর্তমানে
ওমানের বারকা এলাকায় প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
ঘটনাটি
ঘটে রোববার বিকেল ৪টার দিকে বারকা এলাকায়। টানা বৃষ্টিতে একটি উপত্যকা উপচে পড়লে সেখানে
প্রবল স্রোতের মধ্যে একটি গাড়ি আটকে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা দুজন ভারতীয় নাগরিক সাহায্যের
জন্য চিৎকার করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের
ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষ জড়ো হলেও অনেকেই তখন ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে শাহজাদ খান কোনো দ্বিধা না করে স্রোতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সামাজিক
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাল কুর্তা পরিহিত শাহজাদ প্রথমে পা দিয়ে গাড়ির
জানালার কাঁচ ভাঙার চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হলে পরে একটি পাথর ব্যবহার করে কাঁচ ভেঙে
গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুজনকে বের করে আনেন। আমি শুধু দেখেছি মানুষ বিপদে আছে।
ঘটনার
বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহজাদ খান বলেন, হঠাৎ দেখি একটি গাড়ি পার হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু
মাঝপথে আটকে যায়। ভেতরে থাকা লোকজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল।
তিনি
আরও বলেন, আমি কিছু ভাবিনি না জাতি, না ধর্ম। শুধু দেখেছি মানুষ বিপদে আছে। একজন প্রায়
ডুবে যাচ্ছিল, আরেকজন বের হওয়ার চেষ্টা করছিল।
তার
এই তাৎক্ষণিক সাহসিকতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
পাকিস্তান
সোশ্যাল ক্লাবের সমাজকল্যাণ পরিচালক শানদার বুখারি বলেন, শাহজাদ খানের সাহসিকতা সামাজিক
মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, তার এই সাহসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দূতাবাস ও কমিউনিটির
পক্ষ থেকে তাকে সম্মানিত করা হবে।
দুর্যোগের
সময়ে যখন অনেকেই দর্শকের ভূমিকায় থাকেন, তখন শাহজাদ খানের এই উদ্যোগ মানবতার এক উজ্জ্বল
উদাহরণ হয়ে উঠেছে।