জামায়াত নেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে : জেলা আমির
১ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৯, ২০২৬
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানান, ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসায় প্রভাষক ছিলেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই এ ঘটনায় মামলা করা হবে। তার অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হলে জামায়াতে ইসলামী কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এর আগে বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। প্রথমে তাকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক উপল হাসান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে থাকেন। অনুষ্ঠান শুরু হলে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে সভাস্থলের সামনে রাখা কয়েক শ চেয়ার ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে দুই দলের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে সন্ধ্যার দিকে ঝিনাইগাতী শহরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা রেজাউল করিমকে আটক করে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিএনপির কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। ধাওয়ার সময় রেজাউল করিমকে ধরে ফেলে এবং মারাত্মকভাবে আঘাত করে।’
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তিনি শঙ্কিত। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে। কবর খোঁড়া হচ্ছে, আর পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী মরদেহের অপেক্ষায় বাড়িতে ভিড় করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ‘রেজাউল করিম অত্যন্ত ভদ্র ও জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। পুরো এলাকা আজ শোকাহত।’