ঈদযাত্রা আগের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে : সেতুমন্ত্রী
২ ঘন্টা আগে রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬
সাম্প্রতিক
ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন
ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে
বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ
রবিবার (২৯ মার্চ) ঈদ–পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে এসব কথা
বলেন শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী
বলেন, প্রায় দেড় কোটি মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা ছাড়লেও কোথাও বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি
হয়নি। কিছু স্থানে চাপ থাকলেও অধিকাংশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে দু-একটি
অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সড়ক
পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা
করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে এই সভা করা হয়। সভায় সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত
পুলিশ, বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আগামী ঈদুল আজহা সামনে
রেখে যাত্রা আরও নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায়
নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার বসতে না দেওয়া, ট্রাক ও পণ্যবাহী
যান চলাচলে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় বাড়তি নজরদারি। বিশেষ করে
গাজীপুর-চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় যানজট কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান
শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী
আরও বলেন, ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসানো যাবে না। নির্ধারিত
বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে।
ফেরি
পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে
শেখ রবিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্ত্রী জানান, সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু
করা হবে। এর মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট ভায়োলেশন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও
ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সহজে শনাক্ত করা যাবে। জিপিএসের মাধ্যমে ওভারস্পিড বা নির্ধারিত
রুটের বাইরে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ
রবিউল আলম বলেন, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের
ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম
চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী
দাবি করেন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের
ফলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত
করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এ
সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের
সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়কসচিব মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক
সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।