আলজেরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১২, আহত ৫৪
১ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ইউরোপ-এশিয়াকে
ছাপিয়ে এবার আফ্রিকান দেশ আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে
অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৫৪ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সবচেয়ে
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে কয়েক ডজন পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার
(২৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ সায়ুদ জানান,
জিজেল, বেজাইয়া ও তিজি উজু প্রদেশে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি
বলেন, জিজেল প্রদেশে পাঁচজন, বেজাইয়ায় চারজন এবং তিজি উজুতে তিনজন নিহত হয়েছেন।
দাবানলে
আহতদের চিকিৎসার পরিস্থিতি দেখতে বেজাইয়া প্রদেশের সুক এল থেনিন শহরের একটি হাসপাতাল
পরিদর্শনের সময় এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি সংবাদ সংস্থা আলজেরিয়া প্রেস
সার্ভিসের (এপিএস) তথ্য অনুযায়ী, ওই হাসপাতালে ৫৪ জনকে পোড়া ও ধোঁয়াজনিত সমস্যার চিকিৎসা
দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
সায়ুদ
জানান, বুধবার দেশজুড়ে মোট ১৫৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করেছে সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে ৩৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বেজাইয়া প্রদেশে। ইতোমধ্যে ১৮টি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা
সম্ভব হয়েছে।
আলজেরিয়া
ও প্রতিবেশী তিউনিসিয়ায় যখন তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে, তখনই এসব দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জানান, স্কিকদা, এল তারফ, বুইরা, তিজি উজু ও তেবেসা প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণ দল আগুন
নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে বেজাইয়ায় এখনও ১৮টি এলাকায় আগুন সক্রিয় রয়েছে। জিজেল
প্রদেশের ১২টি পৌরসভাতেও আগুন জ্বলছে। এসব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দাবানলে
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে কয়েক ডজন পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম জিজেল নিউজের প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে স্থানীয়
বাসিন্দারা একটি ডাকঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
গ্রীষ্মের
তীব্র দাবদাহের সময় আলজেরিয়ায় প্রায়ই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবানলের ঘটনা ঘটে। শুধু গত
মাসেই দেশটিতে দাবানলে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে দেশটির বনাঞ্চলসমৃদ্ধ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শক্তিশালী বাতাস
দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনও এসব দুর্যোগের
তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।