প্রিয়জনকে বার্গার খাওয়ানোর দিন আজ
১ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
বার্গারের
নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। নরম বান, রসালো মাংসের প্যাটি, গলানো চিজ, পেঁয়াজ,
টমেটো আর টক আচারের সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি স্বাদ ও বৈচিত্র্যের কারণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
চিজবার্গার
থেকে শুরু করে বারবিকিউ সস, পেঁয়াজের রিং কিংবা ব্লু চিজ—পছন্দ
অনুযায়ী বার্গারে যোগ করা যায় নানা উপকরণ। আর এই জনপ্রিয় খাবারকে ঘিরেই প্রতিবছর ২৭
আগস্ট পালিত হয় বার্গার দিবস।
বার্গার
দিবস উদযাপনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পছন্দের একটি বার্গার খাওয়া। চাইলে পরিবার বা বন্ধুদের
নিয়ে বাড়িতেও আয়োজন করা যায় ছোটখাটো বার্গার পার্টির। সেখানে সবাই নিজের পছন্দ অনুযায়ী
প্যাটি, চিজ, সস ও অন্যান্য উপকরণ বেছে নিয়ে তৈরি করতে পারেন নিজের মতো বার্গার।
বর্তমানে
বার্গার শুধু গরুর মাংসের প্যাটিতেই সীমাবদ্ধ নেই। চিকেন, টার্কি, মাশরুম এমনকি উদ্ভিদভিত্তিক
প্যাটি দিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের বার্গার। গুরমে বার্গারে যুক্ত হচ্ছে অ্যাভোকাডো,
লেবু, মরিচ, চিনাবাদাম ও লেমনগ্রাসের মতো ভিন্নধর্মী উপকরণও।
বার্গার
দিবস তুলনামূলক নতুন একটি দিবস। যুক্তরাজ্যের লাইফস্টাইলভিত্তিক ই-মেইল প্রকাশনা ‘মি.
হাইড’ ২০১৩ সালে প্রথম বার্গার দিবসের প্রচলন করে। এরপর থেকে
প্রতিবছর ২৭ আগস্ট দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
তবে
বার্গারের ইতিহাস এর চেয়ে অনেক পুরোনো। খাবারটির প্রকৃত উদ্ভাবক কে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে
মতভেদ।
একটি
ধারণা অনুযায়ী, বার্গারের শিকড় জার্মানির হামবুর্গ শহরে। সেখানে ‘হামবুর্গ স্টেক’
নামে কিমা করা গরুর মাংসের একটি খাবার জনপ্রিয় ছিল। পরে ওই মাংস রুটির মধ্যে দিয়ে খাওয়ার
ধারণা থেকেই আধুনিক বার্গারের সূচনা হতে পারে।
অন্য
একটি প্রচলিত দাবি হলো, ডেনিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লুইস লাসেন ১৯০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের
নিউ হ্যাভেনে প্রথম বার্গার তৈরি করেন।
১৯০৪
সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত একটি খাবারের মেলায় বার্গার বড় পরিসরে মানুষের
সামনে আসে। তবে তখনো এটি আজকের মতো ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।
বার্গারের
জনপ্রিয়তার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। একসময় গরুর মাংসের তুলনামূলক সস্তা অংশ কিমা
করে প্যাটি তৈরি করা হতো। ফলে কম খরচে দ্রুত একটি খাবার তৈরি করা সম্ভব ছিল।
১৯৩০-এর
দশকের মহামন্দার সময় সাশ্রয়ী খাবারের চাহিদা বেড়ে গেলে বার্গারের জনপ্রিয়তাও বাড়তে
থাকে। পরবর্তীতে ফাস্টফুডের দোকানের বিস্তার বার্গারকে যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেয়।
বার্গার
নিয়ে মানুষের আগ্রহের আরেকটি মজার দৃষ্টান্ত হলো বিশাল আকৃতির বার্গার তৈরির প্রতিযোগিতা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের জুসি ফুডস একবার প্রায় ৩৫২ কেজি ওজনের একটি বিশাল বার্গার তৈরি
করেছিল। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল ৫ হাজার ডলারেরও বেশি।
আজ
বার্গার শুধু একটি খাবারের নাম নয়; এটি বিশ্বজুড়ে ফাস্টফুড সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত
প্রতীক। নানা স্বাদ, উপকরণ ও আকারে প্রতিনিয়ত নতুন রূপে হাজির হওয়া এই খাবারটি তাই
দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।