২০০ বছর পর পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম, রথে চড়িয়ে রাজকীয় বরণ
৫৩ মিনিট আগে বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
দীর্ঘ
দুই শতকের অপেক্ষা। এর মধ্যে পেরিয়ে
গেছে টানা পাঁচ প্রজন্ম। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের এক পরিবারে জন্ম
নিয়েছে কন্যাসন্তান। বহু প্রতীক্ষিত এই নবজাতককে ঘিরে
পরিবারজুড়ে এখন আনন্দ-উৎসবের আমেজ। হাসপাতাল থেকে মা ও মেয়েকে
ফুলে সাজানো রথে করে, ব্যান্ডপার্টি, ঢাকঢোল ও নানা আয়োজনের
মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের
বিড জেলার পারলি এলাকার দহিফলে পরিবারে ঘটেছে এই আনন্দের ঘটনা।
পরিবারের সদস্য কল্পনা হৃষিকেশ দহিফলের কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে কন্যাশিশু। নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। হাসপাতাল থেকে
ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে বরণ
করে নিতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক
শোভাযাত্রার।
ঢাকঢোল,
কাঁসর ও ব্যান্ডপার্টির সুরের
সঙ্গে ফুল দিয়ে সাজানো রথে করে গার্গী ও তার মাকে
বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের নতুন সদস্যকে রাজকুমারীর মতো করে বরণ করার এ দৃশ্য দেখতে
আশপাশের অনেক মানুষও সেখানে ভিড় করেন। পুরো আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
নাতনির
জন্মে আবেগাপ্লুত গার্গীর দাদু লিম্বাজী দহিফলে। তিনি বলেন, পরিবারের ঘরে কন্যাসন্তানের আগমন তাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে কোনো মেয়েশিশু না থাকায় যে
আক্ষেপ ছিল, গার্গীর জন্মের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষারও অবসান হয়েছে।
গার্গীর
ঠাকুমা সুরেশা দহিফলেও নাতনির জন্মে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের ঘরে আজ সাক্ষাৎ লক্ষ্মী
এসেছে।’ নাতনির আগমনে পরিবারের সবাই ভীষণ আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
গার্গীর
বাবা বলেন, অনেক পরিবার এখনো ছেলেসন্তানের প্রত্যাশা করে। কিন্তু একটি মেয়েশিশুর জন্ম যে আনন্দ ও
আবেগ নিয়ে আসে, তা আলাদা। মেয়েরা
বাবার সঙ্গে বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ হয়। তাই গার্গীকে ফুলের মতো যত্নে বড় করার প্রত্যয়
ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পরিবারটির
সদস্যরা জানান, কন্যাসন্তানের জন্ম কোনোভাবেই কম আনন্দের বিষয়
নয়—বরং এটি গর্ব ও উদযাপনের উপলক্ষ।
সমাজে মেয়েশিশুর জন্মকে ইতিবাচকভাবে দেখার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তারা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে কন্যাসন্তানের জন্মকে আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।