কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুমিল্লায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
১ ঘন্টা আগে শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬
গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে কুমিল্লার তিতাস থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাস থানাধীন বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৩০)। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ছোট কাজরা গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১১-এর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করে তারা। বন্দীদের কয়েকজন কারাগারের লকআপের গেট ভাঙচুর করে বের হয়ে ভবনের সিঁড়িতে থাকা লোহার অ্যাঙ্গেল খুলে তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় কারাগারের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে ২৫ জন গুরুতর আহত হন। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ কয়েকজন বন্দী কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ১৯৯ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৩৫৩, ২২৪, ৪২৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৪৩৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
র্যাব জানায়, কারাগার থেকে পালানোর ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল শনিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার মতিঝিল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলাটির নম্বর ৯১(৩)০৫ এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।