সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়েন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

Bortoman Protidin

১ ঘন্টা আগে রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬


#

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার পর মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর তার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন।

মানিক পশারীর মেয়ে সুমি বেগম জানান, শনিবার দুপুরে তার বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। তবে বিকেলে কয়েকজন এসে সেখানে দাফন করতে দেয়া হবে না বলে কবরটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে দাফনের ব্যবস্থা করা হলে তারা নিজেরাই কবর খুঁড়ে বাবাকে দাফন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের কেউ দাফনে অংশ নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, মানিক পশারী সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হন। তৎকালীন সরকারের চাপে তিনি ওই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন বাতেন। তার মতে, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেয়া ঠিক হয়নি এবং নিজ জন্মভূমিতেই তার দাফন হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী তাদের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন তার দাফনে বাধা দিলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাফনে কোনও বাধা দেয়া হয়নি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মানিক পশারী মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দাফনের জন্য মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতালিয়া গ্রামের বাড়িতে নেয়ার পথে পিরোজপুর শহরে বাধার মুখে পড়েন স্বজনরা। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সাঈদীর অনুসারীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠে।

পরে পুলিশ মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। সেখানে সাঈদীর অনুসারী ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিকেলে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে চিতালিয়া গ্রামে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর মুখ্য বিচারিক আদালতে সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় মানিক পশারী ৬ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়েন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

#

শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মসজিদের ইমামের যাবজ্জীবন

#

অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

#

‘মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

#

বাবার বাড়ি থেকে নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

#

স্বামীর ভালোবাসার আলিঙ্গনে পাঁজরের ৫ হাড় ভেঙে হাসপাতালে স্ত্রী

#

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর হঠাৎ পেটব্যথা, গর্ভপাতের পর মা জানলেন ধর্ষণের কথা

#

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামীসহ লাপাত্তা শ্বশুরবাড়ির লোকজন

#

বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের ব্যবস্থা করবে জাপান: নিক্কেই

#

অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ যুবকের মৃত্যু

Link copied