শিশুকে যৌন নিপীড়ন, জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত
২ দিন আগে শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
নোয়াখালীর
হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত
কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা
করা হয়।
বুধবার
(৫ আগস্ট) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সালিশ বসে।
অভিযুক্ত
হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন
ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে
সম্পৃক্ত।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি
ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন
ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে
তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি
জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাম্য
সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার
অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার
টাকা জরিমানা করা হয়।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়।
তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের
সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে
ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়। অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ
ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা
হচ্ছে।
হরণী
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য
সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ
করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।
হরণী
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির
সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির
বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন
কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি।
হাতিয়া
থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন
হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।