পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে ৪৩ বস্তা টাকা
২ দিন আগে সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ডসংখ্যক ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া
গেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। বর্তমানে চলছে টাকার
গণনার কাজ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে দানের পরিমাণ
দীর্ঘ
ছয় মাস পর আজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নাজমুস সাকিব। দানবাক্স থেকে বের করা টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয়
তলায় নেওয়া হয়। পরে মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের গণনা কার্যক্রম।
জেলা
প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এবার দানবাক্সগুলো থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। রূপালী
ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদ্রাসার ছাত্র ও মসজিদ কমিটির লোকজন মিলে টাকা গণনার
কাজ করছেন। গণনা শেষ হলে মোট টাকার পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে
নিরাপত্তা
ব্যবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু
করে টাকা গণনা এবং তা ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর ও নিচ্ছিদ্র
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাকা
গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন ছাত্র,
আল- জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী
ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
এর
আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন ৩ মাস
২৭ দিনে দানবাক্সে জমা হয়েছিল নগদ ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বিপুল
পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা-রুপার গহনাও পাওয়া গিয়েছিল।
দানবাক্স
খোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবারের মতো এবারও মসজিদ প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড়
জমে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত নগদ অর্থ ছাড়াও হাঁস-মুরগি,
গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্ৰী মানত হিসেবে দান করে থাকেন।
কিশোরগঞ্জের
হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক
পাগলা মসজিদ। মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি
রয়েছে। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক এই কমিটির সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাধারণ
সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিক
ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।