ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
পটুয়াখালীর
কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে এক অসুস্থ কিশোরীকে
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামের এক কবিরাজের বিরুদ্ধে।
পরে ওই ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী
ও তার মাকে ব্ল্যাকমেইল এবং হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পর অভিযুক্ত মুসা
তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়ে কথা
বলতে গেলে কিশোরীর পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।
এ
ঘটনায় কিশোরীর সৎ বাবা মেহেদী
হাসান রিয়াজ ৩১ অক্টোবর কলাপাড়া
থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। ২ নভেম্বর বিষয়টি
জানাজানি হয়। মামলায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পরিচিত।
এজাহার
সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে
কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদিনা বাগ এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। কিশোরী রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। রিয়াজ মাঝেমধ্যে ওই বাসায় যাতায়াত
করতেন।
এজাহারে
বলা হয়, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবার বিভিন্নভাবে তার চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এরই মধ্যে পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর চিকিৎসার কথা
বলে মুসা নানা কৌশলে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ
অনুযায়ী, এ সময়ের অন্তরঙ্গ
মুহূর্তের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন মুসা। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে
কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে কিশোরী বিয়ের কথা বললে অভিযুক্তরা ভিডিওগুলো মুঠোফোন থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে তার বাড়িতে যান। সেখানে কিশোরী ও তার মাকে
বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এ
ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর সৎ বাবা। এদিকে,
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মুসার বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের
সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া
যায়নি।
অভিযুক্ত
তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে পরে সরাসরি যোগাযোগ করবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ
বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুসার বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর করা আরেকটি মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরীর
মায়ের সঙ্গে ধারণ করা কিছু আপত্তিকর দৃশ্য পুলিশের হাতে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে, ভিডিওতে থাকা পুরুষ ব্যক্তি মুসা কি না। এ
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।