যৌতুক মামলায় এবার উল্টো চিত্র, স্বামীর মামলায় কারাগারে স্ত্রী
১ ঘন্টা আগে বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬
স্বামীর
সঙ্গে সংসার করার শর্তে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলায় তানিয়া খাতুন নামে এক নারীকে কারাগারে
পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার
(২৫ আগস্ট) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তানিয়া। শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বালিয়াকান্দি আমলি আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খলকুলা (সাকুটিয়া) গ্রামের মো. মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়।
অভিযোগ
করা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া স্বামীর
কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সাখাওয়াত ওই টাকা দিতে
অস্বীকৃতি জানালে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন
করা হয়। একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা না দিলে সংসার
করবেন না বলে জানিয়ে
বাবার বাড়িতে চলে যান তানিয়া।
মামলা
সূত্রে আরও জানা যায়, পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক চেষ্টা করা হলেও যৌতুকের টাকা ছাড়া তানিয়া সংসারে ফিরতে রাজি হননি। পরে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ
ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি
আমলি আদালতে মামলা করেন।
বাদীপক্ষের
আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, যৌতুক আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান। আসামি ও বাদীপক্ষের মধ্যে
একাধিকবার আইনজীবীদের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া দেননি আসামি। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবীর
দাবি, আসামি এর আগে বাদীপক্ষের
কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা
নিয়েছেন এবং পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আদালতে বিষয়টি তুলে ধরার পর তানিয়ার জামিন
আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার
বাদী সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় তার
স্ত্রী তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন
করতেন। এ ঘটনায় আদালতের
মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন তিনি।