ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করতে শিশুর অঙ্গহানি তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
১ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬
১৬
বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির
করানোর অভিযোগ করা মামলায় তিন জনের আমৃত্যু এবং দুই জনের দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন
আদালত।
আজ
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী
মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা
করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে
কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি
হলেন— মো. রমজান ও সাদ্দাম।
এছাড়াও,
এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলা
থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার
ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। তবে পলাতক থাকা সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দামের বিরুদ্ধে আদালত
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,
আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায়
করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের এক শিশুকে
ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু
করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ
কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম
করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
তদন্ত
শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ
আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন। মামলাটির বিচারকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।