ভারতে বিষাক্ত মদপানে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু
৫২ মিনিট আগে রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
ভারতের
মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়
অসুস্থ হয়ে আরও ১০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার
পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। একই সঙ্গে
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
হিসেবে এলাকার ছয়টি মদের দোকানও সিলগালা করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের
বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন
এখনো হাতে আসেনি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর
প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মিথাইল অ্যালকোহলের
বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনায়
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের
নির্দেশ দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী
বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং
এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ইতোমধ্যে
প্রশাসন ও চিকিৎসকদের একাধিক দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। চিকিৎসকদের
মতে, অসুস্থদের শরীরে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি,
তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি
মোকাবিলায় সাগর জেলার নৌরা, ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবেশ পাতেরিয়া জানান,
চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। রোগীদের মধ্যে যে উপসর্গ
দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন
না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি
আরও জানান, গুরুতর অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্থিতিশীল করার পর উন্নত চিকিৎসার
জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা
করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মদ পান করেছেন এমন ব্যক্তি
এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিয়েছে এমন সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি ঠেকাতে স্থানীয় আবগারি বিভাগের ভূমিকা
নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে এক লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ী
‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদ বিক্রির
বিষয়ে আবগারি বিভাগকে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি ঘটনার মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারী
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরও
কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ
ও প্রশাসন অবৈধ মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করতে ব্যাপক অভিযান
শুরু করেছে।