নেশার টাকার জন্য শ্বশুরের বাসায় চুরি, জামাই ও তার বাবা আটক
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
নেশার
টাকা জোগাতে এবং পাওনাদারের দেনা মেটাতে শ্বশুরের বাসায় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা
পড়েছেন জামাতা ও তার বাবা। রোববার (৮ মার্চ) রাতে নেত্রকোণার মদন পৌরসভার শ্যামলী রোড
এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটক
দুজন হলেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা সদরের মধ্যবাজার এলাকার বরুণ চন্দ্র কর্মকার
(৪৫) এবং তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)। তরুণ সম্পর্কে অভিযোগকারী অমূল্য চন্দ্র
দাসের জামাতা।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের
পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে তরুণের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা
মদনেই একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তরুণের বাবা বরুণ চন্দ্র স্থানীয় একটি জুয়েলারি
দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তবে বাবা-ছেলে দুজনেই নেশাগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় অনেকের কাছে
দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
অভিযোগ
উঠেছে, সপ্তাহখানেক আগে নেশার টাকা ও দেনা শোধ করতে শ্বশুরের কাছে টাকা ধার চেয়ে ব্যর্থ
হন তরুণ। এরপর বাবা ও ছেলে মিলে কৌশলে শ্বশুরের আলমারি থেকে ছয় আনা স্বর্ণালংকার চুরি
করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।
এরই
ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে পুনরায় চুরির উদ্দেশ্যে শ্বশুরের ঘরে ঢোকেন
তারা। আলমারি ভেঙে চার আনা ওজনের কানের দুল ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় গৃহকর্তা ও
স্থানীয়দের হাতে নাতে ধরা পড়েন তারা।
সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে বাবা-ছেলে
চুরির কথা স্বীকার করছেন। অভিযুক্ত বরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘টাকার অনেক চাপ ছিল,
তাই বাধ্য হয়ে এ কাজ করেছি।’ অন্যদিকে জামাতা তরুণ চন্দ্র বলেন,
‘আমি আগে নেশা করতাম। সপ্তাহখানেক আগেও শ্বশুরের ঘর থেকে সোনা নিয়েছি। আজ আবার চুরি
করতে গিয়ে ধরা খেলাম, এখন খুব লজ্জা লাগছে।’
কান্নাজড়িত
কণ্ঠে অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, মেয়ের জামাই আর তার বাবা যে নেশাগ্রস্ত, তা আগে বুঝতে
পারিনি। খোঁজখবর না নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়ে বড় ভুল করেছি। তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত
অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মদন
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান জানান, ‘চুরির ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে
আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।