নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার সাবেক রাঁধুনি
১ ঘন্টা আগে শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬
ব্রাজিলের
সংবাদমাধ্যম মেত্রোপলেসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাঁধুনি কয়েক মাস ধরে নেইমার
ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু–পরিজনের জন্য রান্না করতেন। তার অভিযোগ,
চুক্তিতে উল্লেখিত কাজের সীমার বাইরে তাকে অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ সময় খাটুনিতে বাধ্য
করা হয়েছিল, যার ফলে তার শরীরে স্থায়ী শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
রিপোর্ট
অনুযায়ী, সেই রাঁধুনি অভিযোগ করেছেন যে তাকে শুধু নেইমারের জন্য নয়, বরং এই তারকার
প্রায় ১৫০ জন বন্ধু ও সহযোগীর জন্যও খাবার প্রস্তুত করতে হতো। এই বিশাল কাজের চাপের
কারণে তাকে প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে, যা তার চুক্তির সময়সূচির
তুলনায় অনেক বেশি।
তার
প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী কাজের সময় ছিল সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল
৫টা, এবং শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে তাকে প্রায়ই রাত
১১টা বা মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এমনকি অনেক সময় সপ্তাহান্তেও
কাজ করতে হয়েছে। এছাড়া আইন অনুযায়ী তার যে লাঞ্চ ব্রেক পাওয়ার কথা, সে সময়েও তাকে
কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই
কঠিন শারীরিক পরিশ্রমের কারণে তার শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে,
তাকে প্রায়ই ১০ কেজি ওজনের মাংস বহন করতে হতো এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভারী সুপারমার্কেটের
ব্যাগ ওঠানো–নামানোর কাজ করতে হয়েছে।
দীর্ঘ
সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা এবং যথাযথ বিরতি না পাওয়ার ফলে তার পিঠের সমস্যা ও কোমরের
প্রদাহ (হিপ ইনফ্লামেশন) হয়েছে বলে চিকিৎসা নথিতে উল্লেখ আছে। এই শারীরিক সমস্যাগুলোই
তার মামলার প্রধান যুক্তিগুলোর একটি।
আইনি
নথিতে আরও বলা হয়েছে, কর্মীদের জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বিশ্রামের সময়ও তাকে
দেওয়া হয়নি। তার আইনজীবীরা বলেন, 'বাদী নিয়মিতভাবে লাঞ্চ ব্রেক উপভোগ করতে পারেননি।
পুরো চাকরির সময় তাকে লাঞ্চ ব্রেকের জন্য উপস্থিতি দেখাতে বলা হলেও বাস্তবে তিনি সেই
সময়েও কাজ করতেন।'
এই
রাঁধুনি মাসে প্রায় ১,০৬৫ পাউন্ড বেতন পেতেন। এখন তিনি মোট ৩৭,৫৪৪ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ
দাবি করছেন। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে চাকরি শেষের ক্ষতিপূরণ, জরিমানা, বকেয়া ওভারটাইম,
চিকিৎসা খরচ এবং আইনি বিরতি না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ।
এদিকে
বাড়িতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও নেইমার এ বিষয়ে এখনও কোনো
মন্তব্য করেননি। বর্তমানে তিনি কার্লো আনচেলত্তির সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা
পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন।