টেকনাফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক জেলে গুরুতর আহত
৩ ঘন্টা আগে সোমবার, জানুয়ারী ১২, ২০২৬
কক্সবাজারের
টেকনাফ সীমান্তে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা
বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার দিনভর এসব শব্দে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এ
পরিস্থিতিতে টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার
সকালে হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন জেলে
ও সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
আহত
জেলের নাম মো. আলমগীর (৩১)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময়
মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। গুলি তার হাত ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
আলমগীর
টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাকে কক্সবাজার
সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেও সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
পরিস্থিতি কিছু সময় শান্ত থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টার পর হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বসতবাড়ি কেঁপে ওঠে।
হোয়াইক্যং
সীমান্তের বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দের কারণে
তিনি সারারাত আতঙ্কে ছিলেন। স্থানীয় জেলে ইকবাল মাঝি বলেন, রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই
গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে।
হোয়াইক্যং
ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার
পর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে তিন থেকে
চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর আগেও রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া
গুলিতে এপারে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টেকনাফ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের
নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলামের দাবি, গুলিবিদ্ধ জেলে মাছ ধরার
সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার অংশে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে লক্ষ্য
করে গুলি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে
মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মিয়ানমারের
অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবেই সীমান্ত
এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সীমান্তবাসীদের মধ্যে চরম
আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।