আল্লাহ যেন হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন : হাসনাত আব্দুল্লাহ
১৪ মিনিট আগে শনিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৫
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্তব্যটি করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন যে কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়াকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, “আল্লাহ যেন ওই জিনিসটা (শেখ হাসিনার ফাঁসি) বেগম খালেদা জিয়াকে দেখায়, যার কারণে তার আজকে এই পরিণতি হয়েছে। জেলের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা দিতে দেওয়া হয়নি; কোনো ডাক্তার চিকিৎসা করতে গেলে তাকেও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মত-পথের মানুষের কাছ থেকেও খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার ফাঁসি যেন দেখে যেতে পারেন—সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া। ফুসফুসে সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়। পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘদিনের অসুস্থতাগুলো তার চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ একটি রোগের চিকিৎসায় অন্যটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পাঠানো এক বার্তায় শনিবার এ প্রার্থনা জানানো হয়।
এর আগে, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চান। তিনি নিয়মিত তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়ে খালেদা জিয়া জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, এবং তার সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর তিনি ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে আবারো হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সিসিইউতে তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।