আমদানি শুল্ক হ্রাসে মুঠোফোনের দাম অবশ্যই কমবে: ফয়েজ তৈয়্যব
১ ঘন্টা আগে বুধবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২৬
মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ফোনের দাম নিশ্চিতভাবেই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব মুঠোফোনের মূল্যে পড়বে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “যেহেতু আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে, তাই গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমে আসাটাই স্বাভাবিক।”তিনি আরও জানান, আমদানি শুল্ক নির্ধারণ সরাসরি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট অংশীজন হিসেবে মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। তার দাবি, এই খাতে শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা একটি বড় অর্জন। অন্য কোনো খাতে যদি কেউ এমন সহনশীল পর্যায়ে শুল্ক নামিয়ে আনতে পারে, তাহলে সেটি দেখানোর চ্যালেঞ্জও দেন তিনি।সরকার গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মুঠোফোনের দাম রাখতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। অন্যদিকে, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের দেশে সংযোজিত ফোনগুলোর ক্ষেত্রে দাম কমতে পারে আনুমানিক দেড় হাজার টাকা।দাম হ্রাস কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তদারকি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ বিষয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে নজরদারি করবে।তিনি আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের অধিকাংশ মুঠোফোন দেশেই উৎপাদিত হয়। যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে আন্দোলনে রয়েছেন, তারা মূলত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ফোন বিদেশ থেকে কেরিয়ার ও কন্টাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। তাদের ওপর চাপ কমাতেই আমদানি শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রায় সব দাবিই ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। স্টকে থাকা মুঠোফোনগুলোকে বৈধ করা হয়েছে এবং আগামী তিন মাস কোনো ফোন ব্লক করা হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরও সড়কে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।