নিজ বাড়িতে ভালুক পোষার কথা স্বীকার করে বন বিভাগকে জানালেন সাবেক ইউপি সদস্য
১ দিন আগে বুধবার, জানুয়ারী ৭, ২০২৬
খাগড়াছড়িতে একটি বাসা থেকে বিলুপ্তপ্রায় এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার (কালো ভালুক), মায়া হরিণ ও বানরসহ মোট নয়টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় বন বিভাগ এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ অভিযানে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে একটি কালো ভালুক, ছয়টি মায়া হরিণ এবং দুটি বানর। পরে এসব প্রাণীকে নিরাপদ আবাসে রাখার জন্য কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে এগুলো অবমুক্ত করা হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাণীগুলো খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাড়িতে রাখা ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনিই বন বিভাগকে অবহিত করেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় শিকারিদের কাছ থেকে প্রাণীগুলো কিনে তিনি সেগুলো লালন-পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে নবদ্বীপ চাকমা বলেন, বনে শিকার হওয়া প্রাণীগুলোর খবর পেয়ে তিনি সেগুলো শিকারিদের কাছ থেকে কিনেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে বন্য প্রাণী রাখা আইনত অপরাধ। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি বন বিভাগকে বিষয়টি জানান।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বন্য প্রাণী ধরা ও লালন-পালন করা আইনবিরোধী। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রাণীগুলো হস্তান্তর করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজে জড়াবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মতো বন্য প্রাণীরও প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের কারণে এসব প্রাণী আজ বিলুপ্তির মুখে। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতিতে এসব প্রাণী দেখার সুযোগ হারাবে।