“এই কষ্ট আর কারও জীবনে না আসুক”—নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্ত্রীর হৃদয়বিদারক বার্তা
২১ ঘন্টা আগে শুক্রবার, জানুয়ারী ৯, ২০২৬
রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত না হলে তার মতো আরও অসংখ্য পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, “আমার জীবনে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে এসেছে, এমনটা আর কারও জীবনে যেন না আসে—এইটাই আমার একমাত্র চাওয়া।”বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সুরাইয়া বেগম জানান, এ ধরনের সহিংস ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে এবং বিচার না হলে ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে। সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে।স্বামীর শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত সুরাইয়া বেগম বলেন, “সেদিন সন্ধ্যায় সে শুধু বলেছিল—এক কাপ কফি বানিয়ে দাও, নামাজ পড়ে বের হব। ওই কথাটাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।”তিনি আরও জানান, বাইরে থাকলে মুছাব্বির সাধারণত ফোনে বেশি যোগাযোগ করতেন না কিংবা কার সঙ্গে আছেন, সেটাও জানাতেন না। তার মোবাইল ফোন নজরদারিতে ছিল বলেই এমন সতর্কতা অবলম্বন করতেন বলে ধারণা তার।কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করতে পারছেন না। রাজনীতির সঙ্গে তিনি নিজে জড়িত ছিলেন না; সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনাই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।স্বামীর পেশাগত পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে মুছাব্বির পানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকায় এই ব্যবসার সূচনা তাদের হাতেই। ২০২০ সালে তিনি কাউন্সিলরের দায়িত্বও পালন করেন। কয়েক দিন আগেই মুছাব্বির জানিয়েছিলেন, দল যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবেই তিনি চলবেন।সুরাইয়া বেগম জানান, তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে, এক মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বড় মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশের আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গলিতে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তিরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও আহত হন।স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও আগের সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।তার ঘনিষ্ঠ পরিচিত মো. শাহিন জানান, দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুছাব্বির। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের পাশের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।