আনিসুল হক ও তার বান্ধবীর নামে ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা
৬ ঘন্টা আগে রবিবার, জানুয়ারী ১১, ২০২৬
প্রায়
২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তাঁর বান্ধবী তৌফিকা
করিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ
(সিআইডি)। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত
২০১৫) এর ৪(২) ধারায় নিয়মিত এ মামলা দায়ের করে।
আজ
রবিবার ( ১১ জানুয়ারি ) বিকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জসীম উদ্দিন খান
এ তথ্য জানান।
তিনি
জানান, সিআইডির অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে
একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল
পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান,
গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা
করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।
সিআইডির
অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তৌফিকা
করিমের ‘ল’ ফার্ম “সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটস”-এর
সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তির মাধ্যমে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে
নিয়মিত অর্থ স্থানান্তর করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শুধুমাত্র
ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করে বলে অনুসন্ধানে
উঠে এসেছে। এছাড়া তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের
কাছ থেকেও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে,
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও মো.
রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তিনি
“লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স”
নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। এনজিওটির চেয়ারম্যান ছিলেন তৌফিকা করিম, সেক্রেটারি
জেনারেল মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন আনিসুল
হক। সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত ওই এনজিওর হিসাবের মাধ্যমে
বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। ১১ মার্চ ২০১৫
থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত উক্ত এনজিওর মাধ্যমে সর্বমোট ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১
টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে, অনুসন্ধান চলাকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তৌফিকা
করিমের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ২৬টি হিসাব নম্বরে জমাকৃত ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯
হাজার ২১ টাকা ঢাকার মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ফ্রিজ করা হয়েছে।
বর্তমানে
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের
পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার
স্বার্থে তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি
জানিয়েছে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং
এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটির অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম
অব্যাহত থাকবে।