ভর্তি তালিকায় মুসলিম শিক্ষার্থীর আধিক্য, কাশ্মীরে কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত

Bortoman Protidin

১৫ দিন আগে শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬


#

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের একটি নবপ্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়াকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতার মুখে কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসা শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলার শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের অনুমোদন বাতিল করে দেয়।নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করা এই মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৪২ জন মুসলিম, সাতজন হিন্দু এবং একজন শিখ ধর্মাবলম্বী ছিলেন। কলেজটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো আপত্তি তোলে এবং ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চাপের মধ্যেই সরকার কলেজটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেয়।বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের ভক্তদের অনুদানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। আন্দোলন জোরালো হলে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান, যেন কলেজটিতে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি সীমিত করা হয়।এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনএমসি হঠাৎ করে কলেজটির অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরে। তাদের দাবি ছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, হাসপাতালের শয্যা এবং গবেষণাগারের ঘাটতি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠিত সরকারি মেডিকেল কলেজের তুলনায় এখানে আধুনিক ল্যাব ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ছিল।ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হলে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার মাধ্যমে কলেজ বরাদ্দ পেতে হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সম্পূর্ণভাবে মেধার ভিত্তিতেই এই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না।তবে কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলো মেধার বিষয়টিকে উপেক্ষা করে ধর্মের প্রশ্নে কলেজ বন্ধের দাবি জানায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলেজটি চালুর সময় এনএমসি যখন অনুমোদন দিয়েছিল তখন অবকাঠামো নিয়ে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ ঘাটতির অভিযোগ ওঠা সন্দেহজনক।এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং তাদের রাজ্যের অন্যান্য মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে মানুষ নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে, সেখানে কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আন্দোলন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, উচ্চশিক্ষায় এ ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং মেধাবী তরুণদের মনেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
#

থানাকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম

#

অবসরে গেলেন র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং এসবির অতিরিক্ত আইজি মোঃ গোলাম রসুল

#

তথ্য জানাতে হটলাইন সেবা চালু করলো ধর্ম মন্ত্রণালয়

#

তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম

#

শহীদ পরিবারের দায়িত্ব সরকারের: উপদেষ্টা নাহিদ

#

গ্যাসের দাম আবারো বাড়ল

#

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ এবং হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ

#

সরকার সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

#

খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ ও পিজিআর মোতায়েন

#

সুদান থেকে দেশে ফিরল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নিথর দেহ

Link copied