তিতাসের গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু, কয়েক ঘণ্টা পর মিলবে স্বাভাবিক গ্যাস
১৬ ঘন্টা আগে রবিবার, জানুয়ারী ১১, ২০২৬
প্রতিবেদক: মো: রেজাউল করিম প্রীতম
রিপোর্টার, কুমিল্লা-২৪ টেলিভিশন
শনিবার বিকেলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কারিগরি সমস্যার কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।পাইপলাইনে গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে যে ভালভ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনে চাপ বাড়ানো বা কমানো সম্ভব হয়। এসব ভালভ বিতরণ লাইনের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা থাকে।এদিকে রাজধানীতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট চলছে। এর মধ্যেই ৪ জানুয়ারি আমিনবাজার এলাকায় পাইপলাইনে ছিদ্র দেখা দেওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য বাসিন্দা।এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার নতুন করে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিতাসের পক্ষ থেকে সকালে জানানো হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে চার ইঞ্চি ব্যাসের একটি ভালভ ফেটে গ্যাস লিকেজ তৈরি হয়েছে। মেরামতের কাজ চালাতে গিয়ে আশপাশের কয়েকটি ভালভ বন্ধ রাখতে হওয়ায় বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ আশপাশের এলাকায় চরম স্বল্পচাপে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।তিতাস সূত্র জানায়, আমিনবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত করা হলেও ভেতরে ঢুকে পড়া পানি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এই কাজ শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে নতুন দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।এর আগে বৃহস্পতিবার তিতাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, তুরাগ নদীর তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এতে অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, কোথাও কোথাও চুলা জ্বলছিল না। মেরামতের সময় পাইপলাইনে পানি ঢুকে পড়ায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়।ঢাকায় রান্নার জ্বালানির প্রধান দুটি উৎস হলো—তিতাসের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বেসরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজি সিলিন্ডার। বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রেই সংকট চলছে।আমদানি কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক জায়গায় দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও মিললেও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে।দুই ধরনের গ্যাস সংকট একসঙ্গে শুরু হওয়ায় রাজধানীর বহু এলাকায় রান্না কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ রাইস কুকারে ভাত রান্না করে বাইরে থেকে তরকারি কিনে নিচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ, যাঁদের পক্ষে এসব বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।