আদালতের নির্দেশ— বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নে নিষেধাজ্ঞা
১ ঘন্টা আগে রবিবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২৬
রাজধানীর
নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ওয়াসা,
রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
রিহ্যাব-এর
রিট পিটিশনের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং
বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। সম্প্রতি আদালত এ আদেশ দেন।
রিহ্যাব-এর
পক্ষ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হলে আদালত তা আমলে নেন।
ভবন তৈরির বা আংশিক তৈরি ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পানি ও বিদ্যুতের
ওপর নির্ভরশীলতা এবং মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদালতের
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লাইন,
পানির সংযোগ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে
বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এ
আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকৃত ভবনের মালিক বা ডেভেলপার তাৎক্ষণিক ভোগান্তি থেকে
রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে নানা সংকট তৈরি হয়,
আদালত তা বিবেচনায় রেখেছেন।
উল্লেখ্য,
বিগত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সহায়তায়
বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে প্রায় ১২০০টির বেশি বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন
করা হয়। মূলত ডেভেলপারদের প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অনেক নির্মাণ
প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে নির্মাণকাজ আটকে যায়, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা
বেকার হয়ে পড়েন, ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ডেভেলপারদের বড় ধরনের আর্থিক
ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
একই
সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো জটিলতা
তৈরি হয়, যা সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বাস্তব পরিস্থিতি
তুলে ধরেই রিহ্যাব আদালতের শরণাপন্ন হয়। রিহ্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।