ইসলামি তথ্য

ইসলামে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০টি উপায়


প্রকাশিত : বুধবার, ২০২২ এপ্রিল ২০, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
0
বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক: আমরা স্মৃতি বলতে মূলত তথ্য ধারণ করে পুনরায় তা ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বুঝি। আমাদের স্মৃতিকে বিজ্ঞানীরা প্রধানত দুভাগে ভাগ করেছেন। ১. স্বল্প মেয়াদী স্মৃতি ২. দীর্ঘ মেয়াদী স্মৃতি। খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যে সব স্মৃতি স্থায়ী থাকে সেগুলো হলো স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি। দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যেসব স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে সেগুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি।   আজ আমরা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০টি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। ১. দোয়া ও যিকর করা: আমরা সকলেই জানি আল্লাহ্ এর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে পারি, “হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। ” [সূরা: ত্বা-হাঃ ১১৪] আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, “যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন ” [সূরা আল-কাহ্‌ফঃ ২৪] তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা। ২. আন্তরিকতা: যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হলো আন্তরিকতা। ইখলাসের মূল উপাদান হলো বিশুদ্ধ নিয়ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, “তাদের এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। ”[সূরা: আল-বায়্যিনাহঃ ৫] আমাদের নিয়ত হতে হবে এমন যে, আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন। ৩. অন্যকে শেখানো: কোনো কিছু শেখার একটি ভালো উপায় হলো তা অন্যকে শেখানো। এজন্য আমাদেরকে একই বিষয় বারবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পড়তে হয়। এতে করে ঐ বিষয়টি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। ৪. পাপ থেকে দূরে থাকা: প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হলো দুর্বল স্মৃতিশক্তি। ইমাম আশ-শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেছেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না। ” কোনো মানুষ যখন পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য আমাদের উচিত সর্বাত্মক চেষ্টা করা।   ৫. মুখস্থকৃত বিষয়ের উপর আমল করা: কোনো একটি বিষয় যতো বেশিবার পড়া হয় তা আমাদের মস্তিষ্কে ততো দৃঢ়ভাবে জমা হয়। আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে অতো বেশি পড়ার সময় হয়তো অনেকেরই নেই। আমরা আমাদের মুখস্থকৃত সূরা কিংবা সূরার অংশ বিশেষ সুন্নাহ ও নফল সালাতে তিলাওয়াত করতে পারি এবং দোয়া সমূহ পাঠ করতে পারি সালাতের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়। এতে একদিকে ‘আমল করা হবে আর অন্যদিকে হবে মুখস্থকৃত বিষয়টির চর্চার কাজ।   ৬. বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করতে হবে: আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। কুরআন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুরআনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীর ভাবে গেঁথে যায়।   ৭. পরিমিত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যস্ত অফিসের মতো কাজ করে। এটি তখন সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যসমূহ প্রক্রিয়াজাত করে। ঘুম মস্তিষ্ক কোষের পুণর্গঠন ও ক্লান্তি দূর করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না থেকে মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া।   ৮. মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণ: কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য অনেক উপকারী। ইমাম আয-যুহরি বলেছেন, “তোমাদের মধু পান করা উচিত কারণ এটি স্মৃতির জন্য উপকারী। ” মধুতে আছে মুক্ত চিনিকোষ যা আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মধু পান করার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ইমাম আয-যুহরি আরো বলেছেন, “যে ব্যক্তি হাদীস মুখস্থ করতে চায় তার উচিত কিসমিস খাওয়া। ”   ৯.হাল না ছাড়া: সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।   ১০. জীবনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারসমূহ ত্যাগ করা: জ্ঞান অর্জনে অনীহার একটি অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখি। কোনো কাজই আমরা গভীর মনোযোগের সাথে করতে পারি না। এমনটি হওয়ার মূল কারণ হলো নিজেদেরকে আড্ডাবাজি, গান-বাজনা শোনা, মুভি দেখা, ফেইসবুকিং ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখা। আমাদের উচিত এগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা।  
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video