স্মৃতিতে সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী

১০ অগাষ্ট, ২০২০ ০১:৪৬ pm

যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
আমি বাইবোনা,আমি বাইবোনা মোর
খেয়া তরি ঘাটে
চুকিয়ে দিবো বেচা কেনা
মিটিয়ে দিবো গো
মিটিয়ে দিবো লেনা দেনা
বন্ধ হবে আনা গোনা এই হাঁটে
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে
যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগোলায়
কাটালতা – কাটালতায় উঠবে ঘরের দারগুলায়
আহ আহ জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়
ফুলের বাগান – ঘন ঘাসে পড়বে শয্যা বন বাসে
শেওলা এসে ঘিরবে দিঘীর ধারগুলা
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে
তখন এমনি করে বাচবে বাশি এই নাটে
কাটবে – দিন কাটবে – কাটবে গো দিন
আজও যেমন দিন কাটে আহ আহ
এমনি করেই বাজবে বাশি এই নাটে
ঘাটে ঘাটে খেয়া তরি এমনি
এমনি সেইদিন ফুটবে ভরি
চড়বে গরু খেলবে রাখাল ঐ মাঠে
সেই দিন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তখন কে বলেগো সেই প্রভাতে নেই আমি
সকল খেলায় – সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি – আহ আহ কে বলেগো সেই প্রভাতে নেই আমি
নতুন নামে ডাকবে মোরে বাধবে-
বাধবে নতুন বাহু ডোরে
আসবো যাবো চিরদিন ই সেই আমি
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।

 

চাঁদপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক চাঁদপুর দর্পন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, চ্যানেল আই এর স্টাফ রিপোর্টার প্রবীন সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন- চাঁদপুর জেলা প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী ও রিয়াদ বাংলাদেশ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ও নাট্যকার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক রোটারিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়।

 

প্রিয় পাঠক প্রয়াত সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী ছিলেন মিস্টভাষী, সদালাপী একজন মানুষ, যার সাথে ১৯৯৬ সাল থেকেই আমার পরিচয়, যখনি শাহরাস্তি থেকে জেলা সদরে যেতাম বা যেখানেই দেখা হতো তিনি স্নেহের ছোট ভাই হিসাবে বুকে জড়িয়ে নিতেন।

 

২০০৭ সালে যখন আমি চ্যানেল আই ঢাকা স্টুডিওতে তারকা আড্ডা অনুষ্ঠানে অভিনেতা মীর সাব্বির ভাইয়ের সাথে তারকা আড্ডা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি শুনে ভাই কল করে আমায় অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংবাদকর্মী জীবনে তিনি যখনি কোথাও দেখা হতো বলতেন হৃদয় তুমি যা করে থাকো তা আন্তরিকতার সাথেই করো এটা অনেক ভালো লাগে।

 

শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত এডিবির একটা অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চ্যানেল আই প্রতিনিধি হিসাবে তিনি এসেছিলেন সাথে ছিলেন সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী, রহিম বাদশা, জি এম শাহিন ভাই সহ স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা। ইকরাম ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে বল্লেন আজকের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো তোমার গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী পরিবেশন করবে।

 

আমি বল্লাম জি ভাই, তিনি বল্লেন আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার সংগঠনের নিউজ প্রচার করে দিবো। তোমার কাজ গুলি সত্যিই অনেক ভালো লাগে। ভাইয়ের কথায় উৎসাহ পেতাম।

 

শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে নাটক বা কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে শুনলেই ইকরাম ভাই দেখা করতে আসতেন। এমন ভালোবাসা কোথায় পাবো? কে আর আমায় হৃদয় বলে ডাকবে, উৎসাহ দিবে, সংবাদকর্মী হিসাবে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।

 

দূরপ্রবাসে বসে যখন শুনেছি সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী ভাই অসুস্থ তখন থেকেই দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহদাত ভাই, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ ভাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি তিনি কেমন আছেন, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন শুনে আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছি পাশে থাকার।

 

আজ সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী ভাই নেই বলে কেউ তাকে ভুলে যাবেন না, তিনি চাঁদপুর জেলায় অসংখ্য সাংবাদিকদের জন্মদাতা, এই ব্যক্তির নামে স্মৃতি চত্বর করার দাবি জানাচ্ছি, জেলা প্রেসক্লাবের ভেতরে ইকরাম চৌধুরীর কর্মময় জীবনের স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিন, সকল সদস্য, উপদেষ্টা, আজীবন সদস্যদের ছবি সহ নামের তালিকা করে একটি বোর্ড দেয়া হোক। একদিন আমি, আপনি, আমরা কেউ থাকবোনা সবাই চলে যাবে তাই জীবিত অবস্থায় দায়িত্বশীল যাহারা আছেন দোয়া করে উদ্যোগ নিন। আপনাদের কাজ গুলিও একদিন সবার মাঝে বেঁচে থাকবে। আজ সাংবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরী নেই- তবে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন জেলার প্রতিটি মানুষের অন্তরে।

 

৮ আগস্ট ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল খুলে ফেইসবুকে ঢুকে ইকরাম ভাইয়ের মৃত্যু শুনে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারিনি। দূরপ্রবাসে বসে প্রিয়জনদের হারানোর ব্যাথা সইতে পারছিনা। মহান আল্লাহ ইকরাম ভাইকে জান্নাতবাসী করুন। শোকাহত পরিবারের সবাইকে শোক সইবার শক্তি দিন। আমিন।

 

লেখক পরিচিতি- রোটারিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, সাংবাদিক, নাট্যকার, টেলিভিশন অভিনেতা, লেখক ও কবি।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
    123
45678910
25262728293031
       
  12345
27282930   
       
29      
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011