রাজনিতির মডেল সাবেক এমপি এম এ মতিন স্যার

২৬ অগাষ্ট, ২০২০ ০১:৪৪ pm

যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
আমি বাইবোনা,আমি বাইবোনা মোর
খেয়া তরি ঘাটে
চুকিয়ে দিবো বেচা কেনা
মিটিয়ে দিবো গো
মিটিয়ে দিবো লেনা দেনা
বন্ধ হবে আনা গোনা এই হাঁটে
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে
যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগোলায়
কাটালতা – কাটালতায় উঠবে ঘরের দারগুলায়
আহ আহ জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়
ফুলের বাগান – ঘন ঘাসে পড়বে শয্যা বন বাসে
শেওলা এসে ঘিরবে দিঘীর ধারগুলা
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে
তখন এমনি করে বাচবে বাশি এই নাটে
কাটবে – দিন কাটবে – কাটবে গো দিন
আজও যেমন দিন কাটে আহ আহ
এমনি করেই বাজবে বাশি এই নাটে
ঘাটে ঘাটে খেয়া তরি এমনি
এমনি সেইদিন ফুটবে ভরি
চড়বে গরু খেলবে রাখাল ঐ মাঠে
সেই দিন আমায় নাইবা মনে রাখলে
তখন কে বলেগো সেই প্রভাতে নেই আমি
সকল খেলায় – সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি – আহ আহ কে বলেগো সেই প্রভাতে নেই আমি
নতুন নামে ডাকবে মোরে বাধবে –
বাধবে নতুন বাহু ডোরে
আসবো যাবো চিরদিন ই সেই আমি
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে
যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।

 

গীতিকারের লেখা, শিল্পীর কন্ঠে গাওয়া এই গানটির বাস্তবতায় আমাদের সকলের জীবন – আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জন্মগ্রহণ করি এবং তাহার হুকুমেই আমাদের সবাইকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।
আর তারি ধারাবাহিকতায় চলছে সব কিছুই।
তবুও হঠাৎ করে কিছু প্রিয় মানুষদের চলে যাওয়াটা অনেক বেদনার।

 

এম এ মতিন স্যার এক নিবৃত ক্ষণজন্মা কালজয়ী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দেশ ও জনগণের জন্য যারা রাজনীতি করতে চায়- তাদের জন্য মতিন স্যাররা হতে পারেন আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস।

 

তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন সফল তেমনি রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তিনি সফল হয়েছেন। জনগনের ভোটে তিনি চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

 

চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের চারবারের জাতীয় সংসদ সদস্য এম এ মতিন স্যার শুনলাম আর নেই, এই কথা শুনে দুরপ্রবাসে বসে অনেক খারাপ লেগেছে, মনে পড়ে গেলো একজন সংবাদ কর্মী হিসাবে নিউজ নিয়ে ফেলে আসা স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোর কথা ।

 

বাপ-দাদার সম্পত্তি খুঁইয়ে রাজনীতি করা এই ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জীবনের শেষ বেলায় এসে তিনি বড় অসহায়; নেই বিত্ত-বৈভব বা কোনো চাকচিক্য। স্ত্রীকে হারিয়েছেন, আজ তিনিও চলে গেলেন, ওনার প্রতি রইলো সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। আল্লাহ মতিন স্যারকে জান্নাত দান করুন।

 

স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো

মতিন স্যার মানেই ভিন্নতা, স্বচ্ছতা নীতিনৈতিকতা, আন্তরিকতা সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মহাপুরুষ।

যার চলা, বলায় ছিলো ভিন্নতা, শাহরাস্তি – হাজীগঞ্জ বাসির সকল মহলের, সকল দলের নেতা কর্মীদের কাছে ছিলেন তিনি প্রাণ প্রিয় মতিন স্যার, সকলের জন্যই তিনি সমান ভাবে কাজ করার চেস্টা করেছেন।

 

একবার হয়েছে কি তিনি শাহরাস্তির বেশ কিছু উন্নয়ন কাজের উদ্ভোদন করেন, দিন শেষে দুপুরের খাবার খাওয়ার আগেই তিনি বল্লেন নেতা কর্মীদের সাংবাদিক ভাইদের বসিয়ে আগে খাবার দাও, আমায় পরে দাও। পুলিশ ভাইরা ও সাংবাদিক ভাইরা অনেক কস্ট করছেন, তাদের আন্তরিকতার কারনেই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সংবাদ মানুষ পাচ্ছেন।

 

রাত বেশি হয়ে যাওয়ার কারনে সেইদিন আর আমরা কেউ নিউজ পাঠাতে পারিনি, পরের দিন প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিক ভাইদের বল্লেন গতকালের প্রোগ্রামের নিউজ স্থানীয় পত্রিকায় দেখিনি, আপনারা কি রাগ করেছেন কিনা, আপনাদের অনারিয়াম দেয়া হয়নি? আমাদের একজন সংবাদ কর্মী বল্লেন স্যার আমরা সারাদিন আপনার উন্নয়ন কাজগুলোর ছবি তুলি নিউজ করি তবে এতে কোন সন্মানি পাইনি। এই কথা শুনে তিনি দায়িত্বশীল নেতাদের উপর খুব রেগে গেলেন, তাদের বল্লেন এমন কাজ আমি আশা করিনা।

 

প্রয়াত মতিন স্যার তাতক্ষনিক উপস্থিত সবাইর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সবাইকে সন্মানি দিয়ে দিলেন।

তিনি আরও বল্লেন এখন থেকে আপনারা সকল সাংবাদিকরা প্রোগ্রাম শেষ করে যাওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করেই যাবেন।

আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে সরাসরি আমায় বলবেন।

আর এটা আদর্শের নেতা মতিন স্যার বলেই সম্ভব হয়েছে, তিনি নিজে অন্যায় করেনি, কাউকে অন্যায় করার জন্য প্রশ্রয় দেয়নি।

 

তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির চারবারের সাংসদ, দীর্ঘদিন এমপি থাকা সত্বেও শহরে বা গ্রামে নেই অর্থ সম্পদ, নেই রাজ প্রাসাদ।

 

রাজনৈতিক আদর্শ ধরে রেখে একজন শিক্ষক হিসাবে নিজের বাপ দাদার সয় সম্পত্তি বিক্রি করেই জনতার জন্য কাজ করেছেন।

 

আজও শাহরাস্তি – হাজীগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক যে সু বাতাস বইছে তা সম্ভব হয়েছে একজন মতিন স্যার বলেই।
২০০৪ সালের দীর্ঘ মেয়াদি বন্যায় জনগনের ঘরে ত্রাণ বিতরণ করতে নৌকা করে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়েছেন।

 

প্রয়াত সাংসদ এম এ মতিন স্যার হাজীগঞ্জের টোরাগর গ্রামে জন্ম নিলেও আন্তরিকতার সম্পর্ক ছিলো শাহরাস্তি উপজেলার কৃতি সন্তান বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের একনং সেক্টর কমান্ডার সাবেক সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি স্যারের সাথে।

রাজনিতির মডেল সাবেক এমপি এম এ মতিন স্যার

দুইজনের মধ্যে ছিলো মধুর সম্পর্ক, মতিন স্যার অসুস্থ শুনে তিনি মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি বার বার শারীরিক খোঁজ খবর নিয়েছেন। দুইজন দুই দলের হলেও মানবতা, আন্তরিকতা ছিলো গভীর।

দুই জন ব্যাক্তিই হাজীগঞ্জ – শাহরাস্তি উপজেলার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিক।

রাজনৈতিক মাঠের শান্তির দূত, যাদের ভালোবাসায় আলোকিত স্থানীয় মানুষ।

 

অন্যের ক্ষতি করে অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারতেন তিনি, তবে তা তিনি করেন নি, তত্বাবদায়ক সরকারের আমলে দেশ ব্যাপি চিরুনি অভিযান চালিয়ে বহু রাজনৈতিক নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের জেলে যেতে হয়েছে, দেশের মাটি ছেড়ে পালাতে হয়েছে – তবে পালাতে হয়নি সাবেক এমপি এম এ মতিন স্যারের মতো আদর্শের নেতাদের।

তিনি প্রায় বক্তব্যের মাঝে নেতা কর্মীদের বলতেন মনে রাখবে অন্যের ক্ষতি করে সাময়িকভাবে বড় হতে পারবে, তবে একদিন তার হিসাব দিতে হবে, কি হবে অন্যায় করে গাড়ি, বাড়ি দিয়ে, জনগণের অভিশাপ নিয়েই মরতে হবে।

সততার সাথে বেঁচে থাকার নামিই জীবন।
সবশেষে প্রয়াত সাংসদ এম এ মতিন স্যারের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি, মহান আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন – আমিন।

 

বিঃদ্রঃ আমার লেখায় কোন ধরনের ভুল হলে দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্রিয় পাঠক।

 

লেখক পরিচিতি- রোটারিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, সাংবাদিক, নাট্যকার, কবি ও লেখক।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
    123
45678910
25262728293031
       
  12345
27282930   
       
29      
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011