মায়েরা ভালো নেই!

১২ মে, ২০১৯ ০২:৪৯ pm

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার কে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। সে ধারাবাহিতা আজ ১২ মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতিবছর এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। যদিও মাকে ভালবাসা জানাতে কোনো দিনক্ষণ লাগে না; তবুও মায়ের জন্য ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট শব্দ মা। মায়ের চেয়ে সহজ গভীর কোন অনুভূতি নেই।

আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত এ দিনটি মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ এবং নানাভাবে নিজের মায়ের মমত্ববোধ উপস্থাপনের সুযোগ আসে মা দিবসে। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে দিবসটি হয়তো উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে কোন কোন মা বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে বসে একাকিত্ব যন্ত্রণায় চোখের পানি ফেলছেন প্রিয় সন্তানের মুখটি একটিবার দেখার জন্য। গর্ভধারিণী মাকে ভালোবাসার জন্য আসলে কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটা মুহূর্তেই প্রকাশ করা যায়।

দিনে দিনে ভালবাসা আর মমত্ববোধ কমে যাচ্ছে মায়ের প্রতি সন্তানদের। আবার কোন মা সন্তানের অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে বিদ্ধাশ্রম বা বিভিন্ন প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে চলে যায়। সেখানে চার দেওয়ালে নিজেকে বন্দি করে রেখে কোন রকমে বেঁচে থাকেন। আবার এমনও অনেক ঘটনা রয়েছে মাকে নিজ সন্তান মারধোরসহ নানা ভাবে অত্যাচার করে আসছেন।

উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা মিলেছে অনেক মায়ের। কারও স্বামী সংসার নেই। আবার কেউ সন্তানের অবহেলায় জীবনের শেষ দিনগুলো বৃদ্ধাশ্রমের আবদ্ধ দেওয়ালের মধ্যেই পার করছেন।

বৃদ্ধাশ্রমে কেন এসেছে এ বিষয়ে এক মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছেলে বিয়ে করে বউ পেয়ে আমি তার মা, আমাকে ভুলে গেছে। অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছি। এটাই এখন আমার শেষ ঠিকানা। আমার ছেলে আমাকে কখনো দেখতে আসেনি। কখনো জানতে চাইনি মা তুমি কেমন আছো! ছেলেকে দেখতে খুব মন চাই। কিন্তু সাহস পাই না দেখতে যাওয়ার। আমার কারণে যদি তার সংসারে ঝামেলা হয়।

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়ের গল্প এমনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সেটা কখনো ভাবেতেও পারেনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষগুলো। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন মায়ের শেষ ঠিকানা না হয় সেটাই দাবি বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়েদের।

আবার অনেক মায়েরা অনেক সৌভাগ্যবান হয়ে থাকেনও বটে। তার নমুনাস্বরুপ, রোকেয়া নামে এক মায়ের বয়স ১১০ বছর। প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় মা অচল হয়ে আছেন। কখনো তার কোন কিছুই ত্রুটি হতে দেননি তার এক মাত্র ছেলে অবেদ আলী মোড়ল। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে বাড়ি অবেদ আলীর। অবেদ আলী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। নিজের সামান্য উপার্জন থেকে রোজ মায়ের জন্য ওষুধ ও ভালো খাবার নিয়ে আসেন। তার মা এতটা বছর ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। তবু এতটুকুও ভালবাসা কমেনি মায়ের প্রতি। মায়ের কাপড় ধোয়া, রোজ সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাবার দেওয়া সহ যাবতীয় কাজ নিজে হাতে অবেদ আলী করেন।

অন্যদিকে আলেয়া বেগম নামে এক মা জানায়, ছেলেরা সবাই ভাল চাকরি করে। আমার দিকে তারা খেয়াল করে না। ভালো আছি না খারাপ আছি সেটাও কখনো জানতে চাই না। আমার মৃত্যু জন্য তাগের অপেক্ষা।

মা দিবসের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, মা দিবস কি সেটা জানেন না তিনি। বেঁচে থাকার সবকটি দিন যেখানে কষ্টে কেটে যায়। সেখান মা দিবস দিয়ে আর কি হবে। এমনটি অভিমত এই মায়ের।

এভাবেই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ মায়েরাই ভালো নেই। অবহেলা আর অনাদরে খুব কষ্টে বেঁচে আছে। প্রকৃতপক্ষে কোন মা ভালো নেই। মা দিবসের সবটুকু শ্রদ্ধা আর ভালবাসা আজও হয়তো মায়েদের পর্যন্ত পৌঁছায় নি।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
25262728293031
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011
       
Surfe.be - cheap advertising