মারিয়ানা ট্রেঞ্চে এগারো হাজার মিটার গবিরে উদ্ভট সব প্রাণীর বসবাস

৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৫৯ pm

 

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ আমাদের জানা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর জায়গা। ‘মারিয়ানা’ দ্বীপপুঞ্জ থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম ট্রেঞ্চের নাম । এর সর্বোচ্চ গভীরতা এগারো হাজার মিটার ।

এই মারিয়ানার তলা পর্যন্ত সূর্যের আলোর পৌঁছাবার ক্ষমতা নেই , কেননা আমরা জানি, সূর্যের আলো সমুদ্রের গভীরে মোটামুটি হাজার মিটার পর্যন্ত পৌছাতে পারে। আবার এর গভীরতায় পানির চাপ স্বাভাবিক সমুদ্রপৃষ্ঠের চাপেরও প্রায় হাজার গুণ। এর তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এতসব অদ্ভুতুড়ে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ সভ্য পৃথিবীর কাছে এক রকম অধরাই ছিলো বহু বছর যাবত।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ আবিষ্কৃত হয় ১৯৪৮ সাল নাগাদ ব্রিটিশ নেভির একটি সার্ভে জাহাজ ‘এইচ.এম.এস চ্যালেঞ্জার ২’ । এ সমুদ্রতল গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা এক ধরণের বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করছেন । এ যন্ত্রগুলো হল রিমোটলি অপারেটেড ভেহিক্যাল বা আরওভি । প্রযুক্তির এই কল্যাণ আর বিজ্ঞানীদের অপরিসীম পরিশ্রমে আবিষ্কার হওয়া সেই অদ্ভুতুড়ে পরিবেশে বাস করা ততোধিক অদ্ভুত প্রাণীদের দেখে আমাদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের অদ্ভুত সেসব প্রাণীদের নিয়েই আজকের আলাপ।

সার্কাস্টিক ফ্রিঞ্জহেড (Sarcastic Fringehead):

সার্কাস্টিক ফ্রিঞ্জহেড আকারে খুব বেশি বড় হয় না এরা। এদের দস্যিপনার দরুন এদের নামটি অমন, সার্কাস্টিক (sarcastic)! এদের আক্রমণের ধরন যেমন অভিনব, তেমনি ভয়ঙ্কর। আকারে ক্ষুদ্র বলে কারো উপস্থিতি টের পেলেই অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার বিশালাকার হা করে আক্রমণ করে বসে ফ্রিঞ্জহেড।

 

সার্কাস্টিক ফ্রিঞ্জহেড (Sarcastic Fringehead)

                                                          বিশাল হা করে থাকা সার্কাস্টিক ফ্রিঞ্জহেড

 

ফ্রিল্ড শার্ক (Frilled Shark):

যেসব নগণ্য সংখ্যক প্রাণী প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এখনও টিকে আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্রিল্ড শার্ক । এদের দাঁতের কারণে উনিশ শতকে আবিষ্কৃত হওয়া এ মাছগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে । মুখভর্তি এদের দাঁত একেবারের চোয়ালের শেষ খাঁজ পর্যন্ত বিছানো। পঁচিশ পাটিতে কম হলেও ৩০০টি দাঁত সাজানো এদের! এরা লম্বায় মোটামুটি ছয় ফুট পর্যন্ত হতে পারে। শিকারকে ধরাশায়ী করতে পারলে মুখে ভেতরই পিষে মেরে গিলে ফেলে, খানিকটা সাপের মতো।

 

ফ্রিল্ড শার্ক (Frilled Shark)

                                                                                        ফ্রিল্ড শার্ক

 

ব্যারেল আই ফিস (Barreleye Fish):

১৯৪০ সালের দিকে আমরা প্রথম জানতে পারি ব্যারেল আই মাছটি সম্পর্কে । এরা সমুদ্রের আড়াই হাজার মিটার গভীরে সববাস করে। এদের মাথাটি ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ। আর তাতে বসানো আছে ব্যারেল আকৃতির দুটো চোখ যা সাধারণত উপরের দিকে তাক করে থাকে। এদের চোখের অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো তা চারদিকে আলো ছড়িয়ে যায়! বিজ্ঞানীদের ধারণা, স্বচ্ছ মাথা এদের চোখকে এই বৈশিষ্ট্য পেতে সাহায্য করেছে।

 

ব্যারেল আই ফিস (Barreleye Fish)

                                                                                       ব্যারেল আই ফিস

 

ডিপ-সি ড্রাগনফিস (Deep-sea Dragonfish):

গভীর সমুদ্রের ভয়ঙ্কর শিকারী প্রাণীদের অন্যতম ডিপ-সি ড্রাগনফিস । কঙ্কালহীন শরীরে ওদের আকারের তুলনায় দাঁতগুলো অতিমাত্রায় বড় বড়। দেখতে হিংস্র হলেও ওরা লম্বায় হয় মাত্র পনেরো সেন্টিমিটার। বায়োলুমিনেসেন্স পদ্ধতিতে নিজেদের শরীরে আলো তৈরি করতে পারে ওরা। চিবুকের কাছাকাছি ওদের এক বিশেষ অঙ্গ আছে, এর নাম ফটোফোর। এই ফটোফোরের সাহায্যেই ওরা আলো তৈরি করে শিকারকে বোকা বানায় কিংবা বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।

 

ডিপ-সি ড্রাগনফিস (Deep-sea Dragonfish)

                                                                     ডিপ-সি ড্রাগন ফিস

 

ডাম্বো অক্টোপাস (Dumbo Octopus):

অক্টোপাসের যত প্রজাতি আছে, তার মধ্যে ডাম্বো অক্টোপাস স্বভাবতই সবচেয়ে গভীরে বাস করে। এরাও নিজের শরীরে আলো তৈরি করতে পারে। শিকারকে পুরোপুরি গিলে খেতেই ভালোবাসে এরা।

 

ডাম্বো অক্টোপাস (Dumbo Octopus)

                                                                       ডাম্বো অক্টোপাস

 

হ্যাচেট ফিস (Hatchetfish):

হ্যাচেট ফিস বা কুঠার মাছ । খানিকটা কুঠারের মতো দেখতে বলে ওদের নাম দেওয়া হয়েছে হ্যাচেট ফিস বা কুঠার মাছ। এরা বিভিন্ন আকারের হতে পারে। তবে সাধারণত এক থেকে ছয় ইঞ্চির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এদের একটি বিশেষ গুণ হলো এরা ক্যামোফ্লাজ করতে পারে, অর্থাৎ আশেপাশের পরিবেশ অনুযায়ী ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। ডাম্বো অক্টোপাস এবং ডিপ-সি ড্রাগনের মতো এরাও বায়োলুমিনেন্সের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে আলো জ্বালতে পারে।

 

হ্যাচেট ফিস (Hatchetfish)

                                                                              হ্যাচেট ফিস

 

অ্যাঙলার ফিস (Anglerfish):

অ্যাঙলার নামের ফিস বাস সমুদ্রের একেবারে তলদেশে। ওদের পুরুষেরা স্ত্রীদের চেয়ে আকারে বেশ খানিকটা ছোট হয়ে থাকে। ওদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অদ্ভুত যে বিষয়টি তা হল ওদের বংশবিস্তার পদ্ধতি। এরা স্ত্রী এবং পুরুষ একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে একটি একক সত্তা গঠন করে এবং তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সৃষ্টি করে। মিলনের সময় পুরুষ অ্যাঙলার মাছটি যখন স্ত্রী অ্যাঙলারের সাথে একীভূত হতে শুরু করে, তখন সে নিজের চোখ, পাখা, দাঁতসহ আরো বেশ কিছু অঙ্গ হারিয়ে স্ত্রীটির শরীরে পরজীবীর মতো বাস করে এবং ওভাবেই বংশবিস্তারের কাজ সম্পন্ন করে। পুরুষ অ্যাঙলার সর্বসাকুল্যে মোটে ৩ সে.মি. পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে স্ত্রী অ্যাঙলার হয় ১৮ সে.মি. পর্যন্ত।

 

অ্যাঙলার ফিস (Anglerfish)

                                                                           অ্যাঙলার ফিস

 

টেলিস্কোপ অক্টোপাস (Telescope Octopus):

আটটি কর্ষিকাবিশিষ্ট টেলিস্কোপ অক্টোপাস অদৃশ্য হয়ে থাকে প্রায়শই। এর নামে টেলিস্কোপ শব্দটি যুক্ত হবার কারণ এর টিউবুলার চোখ। এ অদ্ভুত চোখটি ওদের লম্বা স্টকে বসানো থাকে আর স্টকের প্রতিটি অঙ্গই নিজেদের জায়গা পরিবর্তন করতে পারে। তাই আশেপাশের সবদিকের উপর নজর রাখা এই টিউবুলার চোখটির জন্য খুব সহজ হয়ে যায়। এই চোখের বদৌলতে অনেক শিকারী প্রাণীর হাত থেকে ওরা বাঁচতে পারে। অদৃশ্য বা প্রায় অদৃশ্য হবার ক্ষমতাও ওদের সে কাজটি আরও অনেক সহজ করে দেয়।

 

টেলিস্কোপ অক্টোপাস (Telescope Octopus)

                                                                                টেলিস্কোপ অক্টোপাস

 

 

 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ এর নির্মাণ কাজ শেষ করলো নাসা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ এর নির্মাণ কাজ শেষ করলো নাসা

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক: বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ এর নির্মাণ কাজ শেষ করলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। প্রায় দুই দশক ধরে টেলিস্কোপটির কাজ চলছিলো। টেলিস্কোপটির নাম বিস্তারিত →

বিশ্বের সবচেয়ে বড়  রেডিও টেলিস্কোপ এলিয়েনের খোঁজে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ এলিয়েনের খোঁজে

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক : চীনে এলিয়েনের খোঁজের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির রেডিও টেলিস্কোপ বানানো হয়েছে । পাঁচ হাজার মিটার ব্যাসের এ টেলিস্কোপের নাম দেওয়া বিস্তারিত →

চীনের প্রকাণ্ড টেলিস্কোপ এলিয়েনের খোঁজে

চীনের প্রকাণ্ড টেলিস্কোপ এলিয়েনের খোঁজে

  বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:এলিয়েন নিয়ে অনেক গাল-গল্প হয়েছে। এলিয়েনরা পৃথিবীতে ঘুরে যায়। তাদের দেখা যায় এমন কথাও হয়েছে-হচ্ছে। এতদিন এলিয়েনরা নিজেরাই যখন খুশি আসতো। কিন্তু বিস্তারিত →

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
20212223242526
2728293031  
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011
       
Surfe.be - cheap advertising