ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে গত ২৭ দিনে খুন হয়েছে ৯টি, সমাধান কোন পথে?

বর্তমান প্রতিদিন bartoman pratidin
প্রকাশিত : শনিবার, ২০২২ অক্টোবর ২৯, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে মানুষ খুনের তালিকা। চলতি অক্টোবর মাসেই ক্যাম্পগুলোতে খুন হয়েছেন ৯ জন। গত ৫ মাসে খুনের সংখ্যা ঠেকেছে ২৫ জনে। এসব খুনের মামলায় যারা বাদী বা সাক্ষী হয়েছেন, পরবর্তী সময়ে তাদেরকেই খুন করা হয়েছে বলে দাবি রোহিঙ্গাদের। আবার খুনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা ও স্বেচ্ছায় পাহারাদার হওয়া স্বেচ্ছাসেবক। এর ফলে চরম আতঙ্ক নিয়ে সময় পার করছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। ভয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে ক্যাম্পের আশপাশের স্থানীয়দেরও।


খুন হওয়া রোহিঙ্গাদের স্বজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, ক্যাম্পে মাদক-অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা বা কোনো মামলার সাক্ষী হলেই দুর্বৃত্তদের টার্গেটে পড়ছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। এরপর যাকে তাদের বাধা মনে হয়, তাকে খুন করে ‘সরিয়ে দেওয়া’ হচ্ছে। আবার এমন অপরাধ করেও পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্প থেকে সহজে আত্মগোপনে চলে যেতে পারে খুনীরা। এ কারণে খুন করার আগে তাদের তেমন ভাবতেও হয় না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদেরই কিছু লোক অদৃশ্য ইশারায় অপরাধ ঘটাচ্ছে। আমাদেরই নির্যাতন করছে, কথায় কথায় খুন করছে। আমরা পুলিশকে এসব বিষয় জানিয়েছি। যারাই অপরাধীদের বিষয়ে জানিয়েছে, মামলার বাদী হয়েছে, স্বাক্ষী হয়েছে, তাদেরই টার্গেট করে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলছে 


রোহিঙ্গারা এ অবস্থা থেকে বাঁচতে এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর ভোরে কুতুপালং ১৭ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আয়াত উল্লাহ (৪০) এবং মোহাম্মদ কাসিমের ছেলে ইয়াছিনকে (৩০) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ভোরে ১৫-২০ জনের একদল দুর্বৃত্ত ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা আয়াত উল্লাহ এবং ইয়াছিনকে বাড়ি থেকে বাইরে এনে গুলি করে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলেই ইয়াছিন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আয়াত উল্লাহ মৃত্যূ বরন করেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


মন্তব্য করুন

Video