ঢাকায় পৌঁছালেন নরেন্দ্র মোদি; বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা

২৬ মার্চ, ২০২১ ১১:২২ am

বর্তমান প্রতিদিন ডেস্ক:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় বিমানযোগে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনের অনুষ্ঠানে এর আগে বিদেশি নেতারা অংশ নিয়েছেন। শেষ দিন (২৬ মার্চ) অংশ নিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই উদযাপনে অংশ নিতে এলেও মোদির এই সফরে স্থান পাবে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়।

 

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি ঢাকায় আসার আগের একটি ছবি শেয়ার করেন। শেয়ার করা ওই ছবির ক্যাপশনে মোদি লিখেছেন, ‘ঢাকার জন্য রওনা হলাম। এই ভ্রমণ বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুত্ব আরও গভীরতর করবে।’

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগামীকাল জাতীয় দিবস উদযাপনে অংশ নেওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছি, যাতে শততম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও স্মরণ করা হবে। গত শতাব্দীর অন্যতম শীর্ষ নেতা বঙ্গবন্ধু, যার জীবন ও আদর্শ এখনও লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে।’

 

ওই বিবৃতিতে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যও অধীর অপেক্ষার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘করোনা মহামারির এই সময়ে এমন এক প্রতিবেশী বন্ধু দেশে সফর করতে পেরে আমি আনন্দিত, যার সঙ্গে ভারতের গভীর সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বিদ্যমান।’

 

সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জে মন্দির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘সাতক্ষীরায় পৌরাণিক যশোরেশ্বরী মন্দিরে মা-কালীর প্রতিও পূজা দিতে চাই আমি। বিশেষ করে ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গেও মিথস্ক্রিয়া করতে চাই আমি, যেখানে শ্রী হরিচরণ ঠাকুর পবিত্র বাণী প্রচার করেছিলেন।’

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার বিশেষ আলাপ-আলোচনা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে।’

 

নরেন্দ্র মোদি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাপ্নিক নেতৃত্বে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানানোয় আমার সফর সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে এই অর্জনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও থাকবে।’

 

এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা ও সংহতির বার্তাও সফরে দেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির এটি দ্বিতীয় সফর। গত বছরের মার্চ মাসে মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁর আসার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে স্থগিত হয় সেই সফর। নতুন বাস্তবতায় এক বছর পর কভিড মহামারির মধ্যেই ঢাকা সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তিতে মোদির এ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

 

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, গত বছর কভিড মহামারি শুরুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

 

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পাশাপাশি এ বছরটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের জোরালো ভূমিকা, সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল ও রয়েছে। কভিড মহামারির মধ্যে ভারতের উপহার হিসেবে আজ আসছে আরো ১২ লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন।

 

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক তা বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ‘মডেল’। অনেকেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ার স্বপ্ন দেখে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে ভারতীয়রা যুদ্ধ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন। এটিও বিশ্বে বিরল। তিনি আরো জানিয়েছেন, মোদি বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় আছেন। এই সফর হবে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাইলফলক।

 

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত করেছে ভারত। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু দুই দেশের সম্পর্ক ও জোরালো অংশীদারির ভিত্তি গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ে এ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থেই ‘সোনালি অধ্যায়ে’ পরিণত হয়েছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এবারের সফরটি উদযাপনের। ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিপক্ব নেতৃত্বের গুণে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। মোদির সফরে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের জনগণ খুশি।’ তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমস্যাগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। দুই দেশ অতীতে তা-ই করেছে।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
2728293031  
       
  12345
6789101112
2728     
       
      1
3031     
   1234
       
    123
45678910
25262728293031
       
  12345
27282930   
       
29      
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011