জন্মান্ধ জাহাঙ্গীরের প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই স্ত্রী সেলিনার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:৩৩ am

 

মিজানুর রহমান মিনু:

ছোট একটি টিনের ঘর। বৃষ্টির সময় ফুটো টিন দিয়ে পানি পড়ে। ঘরের জীর্ণ দশা হলেও জন্মান্ধ স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করছেন গৃহিনী সেলিনা বেগম।

দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ভালবাসার সংসার তাদের। গান গেয়ে ও মানুষের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পরিবারের ভরণ-পোষন করছেন জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীরের প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই স্ত্রী সেলিনা বেগমের। সুখে-শান্তিতে বিয়ের ১৭ বছর অতিক্রম করতে পারায় তাঁরা সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯৭-৯৮ সালে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুরে একটি এনজিও সংস্থার অধীনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন গাণ গেয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি একই ইউনিয়নের ফুলমড়ি গ্রামের অহিদুল ইসলামের বড় ছেলে।

একদিন তিনি বসন্তপুর গ্রামে সচেতনতামূলক গাণের আসরে যান। সেখানে তাঁর গাণের সুর ভালো লাগায় পরিচয় হয় মালেকা আক্তার নামের যুবতীর সাথে। পরে মালেকা আক্তার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে গাণ শিখতে থাকেন। এরই মধ্যে জন্মান্ধ জাহাঙ্গীরের গাণ ভালো লাগে মালেকা আক্তারের বোন সেলিনা আক্তারের।

জাহাঙ্গীরের গাণে মুগ্ধ হন তিনি। এক পর্যায়ে জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম পারিবারিকভাবে সেলিনা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০০৪ সালে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাদের ‘যৌতুক বিহীন’ বিয়ে হয়। ওই সময় আত্মীয় স্বজনসহ আশ-পাশের যুবতীরা জন্মান্ধ যুবককে বিয়ে করায় সেলিনাকে ভালো চোখে দেখেনি। আর সেলিনা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলমের সেবার উদ্দেশ্যেই বিয়ে করেন।

সেলিনা বেগম বলেন, ‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি-আল্লাহ আমাকে অনেক সুখে রেখেছেন। বিয়ের পর থেকে কখনো স্বামীর সাথে ঝগড়া-ফাসাদ হয়নি। যেভাবেই হোক স্বামী আমার ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের চিকিৎসা না করেও আমার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি স্বামীকে। তাছাড়া স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলায় আমি ভীষণ খুশি’।

জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় আমি পারিবারিক জীবনে ১৭ বছর সুন্দরভাবে অতিবাহিত করেছি। আমি জন্মান্ধ হলেও স্ত্রী হিসেবে সেলিনাকে সব সময় খুশি রাখতে চেষ্টা করেছি। থাকার জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বড় ছেলে বাবার ঘর, ছোট ছেলে এতিমখানায় এবং মেয়ে পাশের এক ঘরে থাকতে হয়। সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের কাছে আমার আকুতি, ‘একটি নতুন ঘর তৈরিতে সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাকে সহযোগিতা করতে পারেন; বিকাশ পারসোনাল-০১৬১৭৪২৪৩৪২’।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন ফুলমুড়ি গ্রামে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা সব সময় হাসিখুশি থাকেন। কোন সময় ঝগড়া হতে দেখা যায়নি। তাদের মত পরিবার এলাকায় খুঁজে পাওয়া দুস্কর’।

এ রকম স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর-সেলিনার মত ভালোবাসা সকলের থাকা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। অনেকে বলেন, বিশ্ব ভালোবাসার দিবসের প্রতিপাদ্য হোক-আল্লাহর জন্যই স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, পিতা-মাতাসহ আত্মীয় স্বজনকে ভালোবাসতে হবে। তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ খবর

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
29      
       
      1
       
    123
18192021222324
       
      1
16171819202122
30      
     12
       
    123
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
30      
     12
       
    123
25262728   
       
      1
2345678
9101112131415
3031     
      1
30      
   1234
567891011